রোজ খান কাজুবাদাম মিলবে বিশেষ কিছু উপকার, জানাচ্ছে গবেষণা

কাজু বাদাম বলে কথা। অভিজাত কফির আসর থেকে শুরু করে কেক পোলাও পায়েস, সবেতেই এর কদর।

কাজু খেতে ভাল। সেই সঙ্গে এর গুণও কিছু কম নয়। এই কাজু বাদাম সল্টেড বা নুন দেওয়া হতে পারে, নুন ছাড়া হতে পারে। রোস্টেড হতে পারে। অসুবিধে না-থাকলে যেভাবে খুশি খাওয়া যেতে পারে।

মোটামুটি আঠাশ গ্রাম ওজনের, মানে মোটামুটি ১৮টা গোটা কাজুর থেকে পাওয়া যায় ১৫৭ ক্য়ালোরি। পাওয়া যায় ৮.৫৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৬ গ্রাম সুগার, ০.৯ গ্রাম ফাইবার, ৫.১৭ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪৩ গ্রাম ফ্য়াট, ১০ মিলিগ্রাম ক্য়ালশিয়াম, ১.৮ মিলিগ্রাম আয়রন, ৮৩ মিলিগ্রাম ম্য়াগনেশিয়াম, ১৬৮ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১৮৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৩ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১.৬৪ মিলিগ্রাম জিঙ্ক। এছাড়াও থাকে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি ও ফোলেট।

মোনোআনস্য়াচুরেটেড ও পলিআনস্য়াচুরেটেড ফ্য়াটই যে শুধু বেশি মাত্রায় থাকে কাজুতে তা নয়। এর থেকে প্রোটিনও ভাল পরিমাণে পাওয়া যায়। জীবনযাত্রাজনিত যে ধরনের অসুখ হয় আজকাল, তার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য় করে কাজুবাদাম। কাজুতে থাকা মনোআনস্য়াচুরেটেড ও পলিআনস্য়াচুরেটেড ফ্য়াটি অ্য়াসিড এলডিএল কোলেস্টেরল বা খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য় করে। এর ফলে হার্ট অ্য়াটাক, স্ট্রোক ও কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ঝুঁকি কমে। কাজুতে থাকে বেশ ভাল মাত্রায় ম্য়াগনেশিয়াম। এই ম্য়াগনেশিয়াম আমাদের শরীরের পাচকরসজনিত ৩০০টি ক্রিয়ার ওপর কাজ করে। এর ফলে মেটাবলিজম বাড়ে। এছাড়া ফ্য়াটি অ্য়াসিড ও প্রোটিনের সংশ্লেষ হয় শরীরে। পেশির রিল্য়াক্সেশন এবং নিউরোমাসকুলার ট্রানমিশনে ম্য়াগনেশিয়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর আগেই বলেছি, কাজুতে ভাল পরিমাণে রয়েছে ম্য়াগনেশিয়াম। গবেষকরা জানিয়েছেন, পরিমিত মাত্রায় কাজু খেলে তা ওজন তো বাড়ায় না, বরং তা ওজন সঠিক মাত্রায় সাহায্য় করে।

এক আউন্স কাজুতে পাওয়া যায় মোটের ওপর ৬২২ মাইক্রোগ্রাম কপার। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্য়ক্তির প্রতিদিন ৯০০ মাইক্রোগ্রাম কপার গ্রহণ করা দরকার। এই কপারের ঘাটতি হলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। কাজেই শরীরে কপারের অভাব দূর করতে প্রতিদিন গোটাকতক কাজু খান নিয়ম করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *