“মেয়েদের অন্তর্বাস-স্যানিটারি ন্যাপকিনও চেক করা হচ্ছে!” শ্রীময়ীর অপমানের বদলা নিতে হুঙ্কার মমতার

নাকা চেকিংয়ের নামে কি মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হচ্ছে? পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী, অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এদিন কার্যত ‘বিস্ফোরক’ রূপ ধারণ করেন তৃণমূল নেত্রী।

শ্রীময়ীর হেনস্তা নিয়ে সরব মমতা গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ অভিযোগ করেছিলেন, নাকা চেকিংয়ের সময় মহিলা পুলিশ ছাড়াই তাঁর গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এমনকি তাঁর ব্যাগের ভেতর থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও অন্তর্বাস বের করে দেখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে মমতা বলেন, “মেয়েদের শরীর চেক করা হচ্ছে। গতকালও কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রীর উপর হেনস্তা হয়েছে। চেক করার নামে মেয়েদের ব্যাগ খুলে কী কী আছে, এমনকি ব্যক্তিগত জিনিস—লজ্জা লাগে বলতে—সেগুলো পর্যন্ত টেনে টেনে বের করে অসম্মান করা হয়েছে। এসব অশ্লীলতার চূড়ান্ত!”

“ঝাড়ু হাতে তৈরি থাকুন” ভোটের দিন মহিলারা যাতে কোনো বাধার মুখে না পড়েন, তার জন্য খণ্ডঘোষের মাটি থেকে এক অভিনব দাওয়াই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভোটের দিন যদি এরা বাধা দেয়, তবে যেমন করে রথের রাস্তা সোনার ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করা হয়, আপনারাও একটা করে ঝাড়ু রাখবেন রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য। ঝাড়ু দিতে দিতে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবেন।”

মোদী-শাহকে আক্রমণ ও ‘ভাঁওতা’র অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন:

  • কৃষি নিয়ে জবাব: মোদীজি বাংলার আলু ও ধান চাষিদের দুর্দশার কথা বলছেন, অথচ তিনি জানেন না বাংলায় একবারের জায়গায় তিনবার ফসল ফলে। আলু চাষিদের জন্য আমরা বিমা করেছি।

  • ভাতার প্রতিশ্রুতি: বিজেপি দিল্লিতে ২,৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে এখন বেমালুম ভুলে গিয়েছে। বিহারে টাকা দিয়ে এখন আবার ফেরত চাইছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একমাত্র আমরাই করে দেখিয়েছি।

  • মাছ নিয়ে খোঁচা: প্রধানমন্ত্রী বলছেন বাংলায় নাকি মাছ উৎপাদন হয় না! আমুদিপ্রমোদী বাবুরা কানে কানে যা দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সেটাই বলছেন। ওনার সত্য বলা উচিত।

শেষ কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ বার্তা, প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। ২০২৬-এ গদি উল্টে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি আসলে বাংলাকে ভাগ করতে চাইছে। মানুষ ভোটের বাক্সে এর যোগ্য জবাব দেবে।”