চিরবিদায় সুর-সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের! গানের রয়্যালটি থেকে রেস্তরাঁ চেইন— কত কোটির সম্পত্তি রেখে গেলেন কিংবদন্তি?

ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন। সুরের মায়া কাটিয়ে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন দাদাসাহেব ফালকে এবং পদ্মবিভূষণ প্রাপ্ত কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গায়িকার নাতনি জানাই ভোঁসলে জানিয়েছিলেন, তীব্র ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শেষ রক্ষা হলো না; হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯২ বছর বয়সী এই মহাতারকা। সোমবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
গানের রয়্যালটি থেকে ব্যবসার সাম্রাজ্য: এক নজরে আশা ভোঁসলের ঐশ্বর্য
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শুধু সংগীত জগৎ নয়, শোকের ছায়া নেমেছে বাণিজ্য মহলেও। দীর্ঘ সাত দশকের কেরিয়ারে ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর মোট সম্পদ বা Net Worth কেবল প্লে-ব্যাক সিঙিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
১. মোট সম্পদের পরিমাণ: বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আশা ভোঁসলের আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে। সমসাময়িক গায়িকাদের মধ্যে যা কার্যত ঈর্ষণীয়। তুলনা করলে দেখা যায়, যেখানে নেহা কক্করের সম্পদ প্রায় ১০৪ কোটি টাকা, সেখানে আশা তাই তাঁর ব্যবসার বুদ্ধিতে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন।
২. বিশ্বজুড়ে রেস্তরাঁ চেইন ‘আশাস’ (Asha’s): গানের পাশাপাশি রান্নার প্রতিও অগাধ ভালোবাসা ছিল তাঁর। ২০০২ সালে তিনি শুরু করেন তাঁর সিগনেচার রেস্তরাঁ চেইন ‘আশাস’। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য (দুবাই, কুয়েত) থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য পর্যন্ত এই ব্র্যান্ডের ১৪টিরও বেশি শাখা রয়েছে। এই আন্তর্জাতিক ব্যবসা তাঁর আয়ের একটি বড় উৎস ছিল।
৩. স্থাবর সম্পত্তি ও বিলাসিতা: মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকা পেডার রোডের ‘প্রভুকুঞ্জ’ অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর স্থায়ী বাসস্থান। এছাড়া পুনেসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর কয়েক কোটি টাকার রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তাঁর রিয়েল এস্টেট সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ২০২৫ সালেই তিনি পুনের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ৬.১৫ কোটি টাকায় বিক্রি করেছিলেন।
রেকর্ড গড়া কেরিয়ার ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি মনোনয়ন থেকে শুরু করে পদ্মবিভূষণ— সম্মান ও স্বীকৃতির ঝুলি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তাঁর গাওয়া ‘দম মারো দম’ থেকে ‘পিয়া তু আব তো আজা’— প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মাতিয়ে রাখবে।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। তিনি রেখে গেলেন এক বিশাল উত্তরাধিকার, যা কেবল টাকার অঙ্কে নয়, বরং তাঁর সুরের মূর্ছনায় কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।