. সংসদে বিশেষ অধিবেশন, টার্গেট নারী ভোট! মোদির চিঠির জবাবে ‘বিস্ফোরক’ কংগ্রেস, চরম উত্তেজনা দিল্লিতে

লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০৩৪-এর বদলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই সংরক্ষণ চালু করতে চায় কেন্দ্র। এই লক্ষ্যেই আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
মোদির চিঠি ও ‘নারী শক্তি’র ডাক: অধিবেশনের আগে সমস্ত দলের দলনেতাদের চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তার মূল নির্যাস:
-
দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন দেওয়া প্রয়োজন।
-
ভারত যখন উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া তা সম্ভব নয়।
-
সশস্ত্র বাহিনী থেকে খেলার মাঠ—সর্বত্রই ভারতীয় নারীরা সেরা, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের অধিকার থাকা উচিত।
কংগ্রেসের পাল্টা আক্রমণ ও ‘নির্বাচনী চাল’: প্রধানমন্ত্রীর চিঠির কড়া জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সরকারের এই অতি-সক্রিয়তাকে ‘রাজনৈতিক ফয়দা’ তোলার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে হাত শিবির। খাড়গের অভিযোগ—
-
বাংলা-তামিলনাড়ু কানেকশন: পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মহিলা ভোট টানতেই এই তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে।
-
গোপনীয়তা: বিল পাসের ৩০ মাস পর হঠাত কেন আলোচনা ছাড়াই অধিবেশন ডাকা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাড়গে।
-
দাবি: ২৯ এপ্রিল ভোট মিটে যাওয়ার পর সর্বদল বৈঠক ডেকে এই বিষয়ে আলোচনা করা হোক।
পিছিয়ে আসছে দিনক্ষণ: ২০২৩ সালে পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, ২০২৭-এর জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে ২০৩৪ সালে এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশোধনী বিল এনে মোদি সরকার চাইছে সময়সীমা এগিয়ে আনতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপ ২০২৯-এর মেগা লড়াইয়ের আগে এক বিরাট চাল হতে পারে।
বিশেষ নোট: ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। খাড়গের দাবি অনুযায়ী সরকার কি সর্বদল বৈঠক ডাকবে? না কি বিরোধীদের এড়িয়েই পাশ হবে এই সংশোধনী? নজর এখন দিল্লির দিকে।