ভোটের ডঙ্কা! প্রথম দফায় ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ৩.৬ কোটি ভোটার, কালই রাজ্যে পা রাখছেন দিল্লির কর্তারা!

বঙ্গে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। হাতে মাত্র দশ দিন, তারপরেই রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই মেগা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামীকাল, সোমবার রাজ্যে আসছেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমাজেই নবান্ন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন—সর্বত্রই তৎপরতা তুঙ্গে।

কমিশনের নজরে ৩ জেলা: সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জ্ঞানেশ ভারতীর সঙ্গে থাকছেন অভিনব আগরওয়াল এবং এসবি যোশী। দিল্লি থেকে সরাসরি অন্ডাল হয়ে সড়কপথে তাঁরা পশ্চিম বর্ধমানে পৌঁছাবেন। কমিশনের এই হাই-প্রোফাইল টিমটি মূলত পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি জেলার পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘SIR’ পর্বে এই জেলাগুলির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল। তাই প্রথম দফার ভোটের আগে এই তিন জেলায় কোনোপ্রকার বিশৃঙ্খলা বা গাইডলাইন লঙ্ঘনের ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সফর। বুধবার কলকাতায় সিইও দপ্তরে ম্যারাথন বৈঠকের পর তাঁরা দিল্লি ফিরে যাবেন।

প্রথম দফার ভোটার পরিসংখ্যান: শনিবার নির্বাচন কমিশন যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

  • মোট ভোটার: ৩,৬০,০০,০০০+

  • পুরুষ ভোটার: ১ কোটি ৮৪ লক্ষ

  • মহিলা ভোটার: ১ কোটি ৭৫ লক্ষ

  • তৃতীয় লিঙ্গ: ৪৬৫ জন

জেলাওয়ারী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটারের সংখ্যা সর্বাধিক (৫০.২৬ লক্ষ)। এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর (৪১.৬০ লক্ষ) ও পশ্চিম মেদিনীপুর (৩৭.৭০ লক্ষ)। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহারে ভোটার সংখ্যা ২২.৬৩ লক্ষ। পাহাড়ের কালিম্পং জেলায় ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ২.০১ লক্ষ।

আগামী ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৪ মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”