‘সন্তানকে ফেরাতে পারব না’, কড়া অবস্থান হাইকোর্টের! মা কেন নিজের কোলের শিশুকে পণ্য বানালেন?

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সমাজের রূঢ় বাস্তব ও চরম দারিদ্র্যের এক অন্ধকার দিক সামনে এল। অভাবের তাড়নায় নিজের ৪৫ দিনের কোলের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো বিষ্ফোরক অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি উঠলে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান বিচারপতিরা। একজন মা কীভাবে নিজের সন্তানকে বিক্রির পণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সেই প্রশ্ন তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত।
১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তি!
ঘটনাটি গত বছরের মে মাসের। হাওড়ার সাঁকরাইল থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, ওই এলাকার এক দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেওয়া দেড় মাসের একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ওই বাড়িতে হানা দিয়ে একটি ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার উদ্ধার করে, যা দেখে তদন্তকারীরাও চমকে যান। ওই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট লেখা ছিল যে, মা নিজের সন্তানকে অন্য এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে ওই সন্তানের ওপর তাঁর আর কোনও আইনি অধিকার থাকবে না। নিজের সই করা সেই চুক্তির ভিত্তিতেই ৪৫ দিনের শিশুকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
উচ্চ আদালতের কড়া অবস্থান
পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বর্তমানে লিলুয়া হোমে পাঠিয়েছে এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে নিজের সন্তানের হেফাজত ফিরে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত মা। এদিনের শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “সমাজের কী অবস্থা যে একজন মা তাঁর সন্তানকে বেচে দিচ্ছেন!” আদালত প্রশ্ন তোলে, যদি শিশুটিকে আবার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে তিনি যে পুনরায় তাকে বিক্রি করবেন না, তার গ্যারান্টি কোথায়?
তদন্তের নির্দেশ ও ভবিষ্যৎ
যদিও অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি ছিল, আদালত কড়া নজরদারি ও শর্তসাপেক্ষে সন্তানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিক, কিন্তু হাইকোর্ট এখনই সেই ঝুঁকি নিতে নারাজ। বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ হাওড়ার সাঁকরাইল থানাকে নির্দেশ দিয়েছে অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে। আগামী মে মাসের মধ্যে তদন্তের বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত নিজের কৃতকর্মের জন্য আইনি খাঁড়ার মুখে ওই জননী।