হরমুজ প্রণালী খুলতেই ম্যাজিক! অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১৫ শতাংশ কমলো, জানুন লেটেস্ট রেট

দীর্ঘ ৪০ দিনের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা আর যুদ্ধের কালো মেঘ সরিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি (Iran-US Ceasefire) ঘোষিত হতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেল। বুধবার এই খবর সামনে আসতেই তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও তেলের বাজার
বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী দুই সপ্তাহ ইরানের ওপর কোনো হামলা চালাবে না আমেরিকা। পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইরানও সংঘর্ষবিরতির কথা স্বীকার করে নেয়। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের (Brent Crude Oil) দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৫ ডলারে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ চলাকালীন এই দাম ১০৯.৭৭ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ব্রেন্ট ক্রুড নয়, ইউএস টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড তেলের দামও ব্যারেল প্রতি প্রায় ২০ ডলার কমেছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ভারত
তেলের এই দাম কমার সরাসরি যোগ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে। বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ হয়। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে মার্চ মাসেই তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশ তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সাধারণ মানুষের পকেটে কি স্বস্তি ফিরবে?
ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যুদ্ধের সময় খুব একটা না বাড়লেও, বিশ্ববাজারে দামের এই পতন সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে তেলের দাম এখনই হু হু করে না কমলেও, নতুন করে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি সংকট মিটে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।