‘আমেরিকা হেরেছে, জিতেছে ইরান!’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছে তেহরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তেহরানের অবস্থান। ইরান এই পদক্ষেপকে কেবল একটি সাময়িক বিরতি নয়, বরং আমেরিকার ওপর নিজেদের ‘কূটনৈতিক ও সামরিক বিজয়’ হিসেবে দাবি করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানের দেওয়া ১০ দফার কঠিন প্রস্তাবগুলো মেনে নিতে কার্যত বাধ্য হয়েছে।
১০ দফার শর্তে কোণঠাসা আমেরিকা?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার অনাক্রমণ প্রতিশ্রুতি, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে মার্কিন সম্মতি। এছাড়াও সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ববর্তী প্রস্তাব বাতিল, ইরানকে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এই চুক্তির অংশ বলে দাবি করছে তেহরান। এমনকি লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সমস্ত ফ্রন্টে শত্রুতা অবসানের শর্তও এই তালিকায় রয়েছে।
ভারতের মুসলিম সমাজ ও আলেমদের প্রতিক্রিয়া:
এই যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে ভারতের শিয়া ও সুন্নি আলেমদের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইয়াসুব আব্বাস বলেন, “আমেরিকা নিজেকে পরম শক্তিধর মনে করত, কিন্তু যুদ্ধের ৪০তম দিনে ইরান জিতেছে এবং আমেরিকা-ইজরায়েল হেরেছে।” লখনউ-এর শিয়া মারকাজি চাঁদ কমিটির সভাপতি সৈয়দ সাইফ আব্বাস নাকভী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “ইরান সেই দুর্বৃত্তকে থামিয়ে দিয়েছে যারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছিল। এটি বিশ্বের জন্য দারুণ খবর।”
অন্যদিকে, সুন্নি আলেম মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরাঙ্গিও এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়। এই চুক্তির ফলে কেবল দুই দেশ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আমরা চাই এই সংঘাত যেন চিরতরে বন্ধ হয়।” সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।