“তৃণমূলের গুণ্ডাদের নাম বাদ পড়েছে বলেই এত জ্বালা!” SIR নিয়ে কেশব মৌর্যর চরম বিস্ফোরণ, কাঁপছে বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পারদ চড়ালেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। মঙ্গলবার কলকাতায় পা রেখেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন তিনি। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে মমতার সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন এই বিজেপি নেতা।
“গুণ্ডা ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটা যাচ্ছে”
এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের আপত্তির জবাবে কেশব প্রসাদ মৌর্য সাফ জানান, এই প্রক্রিয়া সারা দেশেই চলছে এবং উত্তর প্রদেশে তা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাবি, “তৃণমূলের পোষা গুণ্ডা এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বলেই ওরা বিচলিত। বিজেপি এতে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা খুঁজছে না, আমরা শুধু চাই দেশের প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকায় থাকুক।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সবার জন্যই সমান নিয়ম রেখেছে, তৃণমূল অহেতুক ভয় পাচ্ছে।
বাংলায় ‘জঙ্গলরাজ’ ও বুলডোজার নীতি
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে মৌর্য বলেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে। একসময়ের বিহার বা উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির শাসনের সঙ্গে বর্তমান বাংলার তুলনা টেনে তিনি বলেন, সেখানে পরিবর্তন এসেছে, এবার বাংলাতেও আসবে।
বুলডোজার চালানো প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “অনুপ্রবেশকারী, মাফিয়া ও গুণ্ডাদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই বুলডোজার প্রয়োজন হয়। বিজেপি তুষ্টিকরণে বিশ্বাস করে না, আমরা সবকা সাথ-সবকা বিকাশে বিশ্বাসী।”
২০০ পারের হুঙ্কার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানায় নিয়ে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। কেশব প্রসাদ মৌর্যর দাবি, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২০০-র বেশি আসন জিতে নবান্ন দখল করবে। তাঁর মতে, যোগী আদিত্যনাথ যেমন উত্তর প্রদেশে পরিবর্তন এনেছেন, বাংলাতেও সেই পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়বে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
ভোটের মুখে ভিন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বুলডোজার’ এবং ‘গুণ্ডা’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় নেতা ও ভিন রাজ্যের মন্ত্রীদের এই ধরণের আক্রমণাত্মক প্রচার নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দেবে।