‘কাজ করতে গিয়ে মরে গেলে দায় কার?’, টলিপাড়ায় কর্মবিরতির ডাক দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি স্বরূপ বিশ্বাসের

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে টলিপাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল স্টুডিওপাড়ায় ক্যামেরা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছে ফেডারেশন ও আর্টিস্ট ফোরাম। এদিন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার আগে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এবার আর মৌখিক আশ্বাস নয়, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার জন্য লিখিত এসওপি (SOP) বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল বাধ্যতামূলক করতে হবে।
স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই কাজের জায়গায় সেফটি প্রোটোকল তৈরির চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আজ আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাহুল চলে যাওয়ায় তাঁর পরিবার পথে বসে গেল, এই দায়ভার কে নেবে? এটা কোনো ‘বল পাসিং গেম’ নয়। প্রযোজক এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে সমষ্টিগতভাবে এই দায়িত্ব নিতে হবে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে শর্টসার্কিটে টেকনিশিয়ানের মৃত্যু বা হাড় ভেঙে সারাজীবনের মতো পঙ্গু হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তার গ্যারান্টি না পেলে কাজ করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য ইম্পা-র (IMPA) পক্ষ থেকে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তও সম্মতি জানিয়েছেন। ফেডারেশন সভাপতির দাবি, আউটডোর শ্যুটিংয়ে জীবনঝুঁকি নিয়ে কাজ করার দিন শেষ। একটি নির্দিষ্ট ‘প্রফরমা’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বিমা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। যদি আজকের বৈঠকে চ্যানেল ও প্রযোজকদের সঙ্গে ঐক্যমত্য না হয়, তবে এই কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন জলে ডুবে রাহুলের মৃত্যু এবং অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রর অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার ঘটনাই এই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে।