কালিয়াচকে বিচারক ঘেরায়ে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন অ্যাকশন! তদন্তের ব্যাটন হাতে নিল এনআইএ

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন উদ্বেগের সুর শোনা গেল দেশের শীর্ষ আদালতে। মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকায় সাতজন বিচারককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনা বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত এবং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনার তদন্তভার সরাসরি এনআইএ (National Investigation Agency)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিভীষিকাময় সেই বিকেল:
গত ১ এপ্রিল মালদহের কালিয়াচক ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে (বিডিও অফিস) প্রায় বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাতজন বিচারককে ঘেরাও করে রাখে একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের ন্যূনতম জল বা খাবার পর্যন্ত পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। রাত গভীর হওয়ার পর তাঁদের কোনওমতে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ফেরার পথে বিচারকদের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের কাছ থেকে জবাবদিহি চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের কড়া নির্দেশিকা:
বিচারকদের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ আদালত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক নির্দেশ জারি করেছে:
বিচারকদের কর্মস্থল ও আবাসস্থলে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।
পুরো ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত আদালতে জমা দিতে হবে।
গ্রেফতারি ও তদন্তের অগ্রগতি:
কালিয়াচক কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। এডিজি (উত্তরবঙ্গ) জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ঘটনার মূলচক্রী, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের। এর আগে বৃহস্পতিবার আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার থেকেই আদালতের নির্দেশ মেনে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে এনআইএ।