মাঝরাতে বিচারক ‘বন্দি’ দশা! মালদহ কাণ্ডে কড়া অ্যাকশন এনআইএ-র, তদন্তে নামল দিল্লির বিশেষ টিম

মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লকে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ‘বন্দি’ করে রাখার ঘটনায় এবার কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বুধবারের সেই ভয়াবহ ঘেরাওকাণ্ড, যেখানে তিনজন মহিলা বিচারকসহ আধিকারিকদের মাঝরাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল, সেই ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ‘প্রাথমিক অনুসন্ধান’ (Preliminary Enquiry) শুরু করেছে সংস্থাটি।
দিল্লির নির্দেশে অ্যাকশন:
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফে এনআইএ-র ডিরেক্টর জেনারেলকে চিঠি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগেই সুপ্রিম কোর্ট এই হামলাকে “পরিকল্পিত এবং ইচ্ছাকৃত” বলে বর্ণনা করেছিল। শীর্ষ আদালতের মতে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আদালতের কড়া বার্তার পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তের ব্লু-প্রিন্ট:
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এনআইএ-র একটি বিশেষ দল কলকাতা থেকে মালদহের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার অফিসার এবং পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন একজন আইজি (IG)। মালদহে পৌঁছে তদন্তকারীরা প্রথমে স্থানীয় থানার থেকে মামলার সমস্ত নথি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করবেন।
হেফাজতে মূলচক্রীরা:
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম মোথাবাড়ির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি এবং এই ঘটনার মূল কারিগর বলে অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কুরুল ইসলাম। শাহজাহানসহ ১৮ জনকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় সিআইডি-র জালে ধরা পড়া মোফাক্কুরুলকেও জেরা করতে চায় এনআইএ।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দল পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এনআইএ এখন খতিয়ে দেখবে, হাজার হাজার মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত নাকি এর পিছনে ছিল কোনো সংগঠিত অপরাধচক্র। আপাতত কালিয়াচক এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি, মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।