বিচারকদের ঘেরাও-বিক্ষোভ! মালদার ঘটনায় ‘কংগ্রেসিদের অত্যাচার’কে দায়ী করে অগ্নিশর্মা মমতা

নির্বাচনী আবহে মালদায় বিচারকদের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বৈষ্ণবনগরের প্রচার মঞ্চ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘কংগ্রেসিদের অত্যাচারে’ই মালদায় এই গণ্ডগোল হয়েছে এবং এর ফলে গোটা বাংলার বদনাম হচ্ছে।

সম্প্রতি ভোটার তালিকা (SIR) থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে সুজাপুর ও মোথাবাড়িতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। সেই সময় সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এই ঘটনার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত, যেখানে সিবিআই ও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “মানুষের ক্ষোভ আছে, আমারও আছে। কিন্তু দয়া করে কোনো বিচারকের ওপর আক্রমণ করবেন না। এটা আমি স্ট্রংলি বলে দিচ্ছি।” তিনি স্থানীয়দের প্ররোচনায় পা না দিয়ে আইনি পথে ট্রাইব্যুনালে আপিল করার পরামর্শ দেন।

বিরোধী দলগুলোকে একহাত নিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি পরিকল্পনা করে ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। যখন নাম বাদ যাচ্ছিল, তখন বিরোধী দলগুলো কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল? আমি প্রথম থেকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি।” তিনি কংগ্রেস ও সিপিএমকে ‘বিজেপির দালাল’ এবং ‘গদাই-মাধাই-জগাই’ বলে কটাক্ষ করেন। নাম না করে হুমায়ুন কবীর ও হায়দরাবাদ থেকে আসা দলকে (এআইএমআইএম) বিহারে ভোট কাটার দল হিসেবে চিহ্নিত করে সংখ্যালঘুদের সতর্ক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকেও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নোটবন্দির পর এবার ‘ভোটবন্দি’ করে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে চন্দনা সরকারের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষমতায় ফিরলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র মতো ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা’ পৌঁছে দেবেন প্রতিটি ঘরে।

Samrat Das
  • Samrat Das