‘জয় বাংলা’ বনাম ‘জয় শ্রীরাম’! দুর্গাপুরে মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্র সিটি সেন্টার, তুঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত

ভোটের দামামা বাজতেই তপ্ত শিল্পনগরী। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সিটি সেন্টার চত্বর। মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান, আকাশফাটানো স্লোগান এবং পুলিশের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর তুমুল বাকবিতণ্ডায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

সকাল থেকেই দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার এবং পশ্চিমের প্রার্থী কবি দত্ত হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে বিশাল র‍্যালি করে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন। চতুরঙ্গ ময়দান থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যার ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে সিটি সেন্টারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ঠিক সেই সময়ই মনোনয়ন দিতে পৌঁছন বিজেপি প্রার্থীরাও। তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পাল্টায় বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করলে দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

বিজেপির অভিযোগ, মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তৃণমূলের বিশাল জমায়েতকে বাধা দেয়নি। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সরাসরি সংঘাতে জড়ান। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে থাকাকালীন পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ‘গোপন বৈঠক’ করেছেন এবং সেখানে ভোট লুঠের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। তিনি সাফ জানান, ডিসি (পূর্ব) ও ওসির ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় গেরুয়া শিবিরের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূলের প্রতি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা দেখে বিজেপি ভয় পেয়েছে। হার নিশ্চিত জেনে এখন তারা পুলিশের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।” মনোনয়ন পর্বেই যে ধরনের উত্তেজনার সাক্ষী থাকল দুর্গাপুর, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসবে, এই রাজনৈতিক পারদ আরও চড়বে।

Samrat Das
  • Samrat Das