শ্বশুর-শাশুড়িকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন পুত্রবধূ! হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, জানুন আসল কারণ

শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ বা খোরপোষের দাবি সংক্রান্ত একটি মামলায় যুগান্তকারী রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন পুত্রবধূ তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে ভরণপোষণ দিতে আইনত বাধ্য নন। বিচারপতি মদন পাল সিংয়ের পর্যবেক্ষণ— ‘নৈতিক দায়বদ্ধতাকে কখনোই আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপান্তর করা যায় না।’
মামলার প্রেক্ষাপট:
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের। এক বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেটির স্ত্রীও (পুত্রবধূ) পুলিশে কর্মরত হন। বৃদ্ধ দম্পতির দাবি ছিল, তাঁদের ছেলে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণভাবে ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাই ছেলের অবর্তমানে চাকরিজীবী পুত্রবধূকে তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। এর আগে পারিবারিক আদালতও তাঁদের এই আর্জি নাকচ করেছিল।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই মামলায় ভারতীয় আইন ও অধিকারের পরিধি স্পষ্ট করে দিয়েছে:
আইনের ধারা: ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১২৫ ধারা (যা বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী, খোরপোষ দাবি করার অধিকার একটি সংবিধিবদ্ধ অধিকার। এই ধারায় নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়ি পড়েন না।
নৈতিকতা বনাম আইন: আদালত জানিয়েছে, পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি মমতা বা দয়া থাকতে পারে, কিন্তু আইনের চোখে সেই নৈতিকতাকে জোরপূর্বক দায় হিসেবে চাপানো যায় না।
নির্ভরশীলতার প্রমাণ: আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন বৃদ্ধরা নিরক্ষর ও অসহায়। তবে আদালত জানায়, পুত্রবধূ তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর ‘অনুকম্পামূলক’ (Compassionate Ground) ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন— এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। ফলে তাঁর উপার্জনকে শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণে ব্যবহার করতে বাধ্য করা যাবে না।