“গোষ্ঠীবাজি মানব না, রিপোর্ট যাবে দিদির কাছে!” দমদমে নিজের কর্মীদেরই চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শাসকদলের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্যে। দমদমের তৃণমূল বিধায়ক ব্রাত্য বসুর একটি ভাইরাল ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি ডেইলিহান্ট) ঘিরে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। দলীয় কর্মিসভায় দাঁড়িয়ে কর্মীদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্রাত্যকে বলতে শোনা যাচ্ছে, দমদমে দল বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত এবং এই ‘গোষ্ঠীবাজি’ তিনি বরদাস্ত করবেন না।
ভিডিওতে ঠিক কী বলেছেন ব্রাত্য বসু?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে মন্ত্রীকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মেজাজে দেখা গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেন:
ছত্রভঙ্গ সংগঠন: “কর্মীরা এখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে আছেন, বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। দল অনেকগুলো গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।”
বুথভিত্তিক রিপোর্ট: ভোটের শেষে প্রতিটি বুথের ফলাফল তিনি খতিয়ে দেখবেন। কোন বুথে দল কেমন ফল করল, তার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে আগামী দিনের রণকৌশল।
মমতাকে চিঠি: ব্রাত্যর হুঁশিয়ারি, নির্বাচনের পর তিনি সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখবেন। কোন বুথের পারফরম্যান্স কেমন, তা বিস্তারিত জানাবেন নেত্রীকে।
পুর-প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রভাব: সবথেকে বড় চমক হলো ২০২৭-এর পুরভোট নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি বলেন, এই বিধানসভা ভোটের রেজাল্ট দেখেই তিনি সুপারিশ করবেন যে ২০২৭-এ কাকে পুর-প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর করা উচিত।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাত্য বসু এই মন্তব্যের মাধ্যমে আসলে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং মেজো-সেজো নেতাদের চাপে রাখলেন। যারা গোষ্ঠীবাজিতে লিপ্ত বা নিজের এলাকায় দলের লিড দিতে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের আগামী দিনে টিকিট পাওয়া যে কঠিন হবে— সেই বার্তাই দিয়ে রাখলেন মন্ত্রী।