মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পেট্রোল পাম্পে! তেলের দামে বিরাট স্বস্তি দিতে বড় চাল মোদী সরকারের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজতেই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের জ্বালানি আমদানিতেও। তবে এই সংকটকালেই সাধারণ মানুষকে বড়সড় স্বস্তি দিতে কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্র সরকার। পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় কাটছাঁট করার পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনার কথা ভাবছে দিল্লি।

স্বস্তির নয়া ফর্মুলা: ১৫ দিন অন্তর পর্যালোচনা
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেভাবে দ্রুত ওঠানামা করছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে এখন থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানির দাম খতিয়ে দেখার কথা ভাবছে সরকার। সিবিআইসি (CBIC)-র চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী জানিয়েছেন, এই নিয়ম আনার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে একধাক্কায় বড় আর্থিক ধাক্কা থেকে বাঁচানো এবং বাজারের সঙ্গে দামের ভারসাম্য বজায় রাখা।

জ্বালানিতে বড় শুল্ক ছাড়:
আমজনতাকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১০ টাকা শুল্ক (Excise Duty) কমিয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী:

পেট্রোল: শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩ টাকা করা হয়েছে।

ডিজেল: শুল্ক ১০ টাকা কমিয়ে কার্যত শূন্যের কোঠায় আনা হয়েছে।

যদিও এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের বছরে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হবে, তবুও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই ঝুঁকি নিতে পিছপা হচ্ছে না কেন্দ্র।

ইরান-ভারত সমীকরণ ও সরবরাহ:
যুদ্ধের আবহেও ভারতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলো ইরানের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান ভারতকে সবুজ সংকেত দেওয়ায় আগামী দিনে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।