অপারেশন সার্চলাইটের নৃশংসতা ভোলে না বাংলাদেশ! গণহত্যার দিনে পাকিস্তানকে ‘আয়না’ দেখালেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী শাসনামলে মহম্মদ ইউনূসের জমানায় যে ‘পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা’ এবং ‘ভারত-বিদ্বেষ’ মাথাচাড়া দিয়েছিল, তাতে জল ঢেলে দিলেন বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবসে’ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি সরাসরি পাকিস্তানের বর্বরতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর যে নৃশংস হামলা চালিয়েছিল, তারেক তাকে ‘ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক ও পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “নিরস্ত্র শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল পাকিস্তানের দখলদারি বাহিনী।” সেই ভয়াবহ রাতেই চট্টগ্রামে যে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা হয়েছিল, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙা বা পাঠ্যবই থেকে ইতিহাস মোছার যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তারেক রহমানের এই বার্তা তার ঠিক উল্টো মেরুর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং ২৫ মার্চের সেই বর্বরোচিত ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরা জরুরি। সাম্য, মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেকের এই অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকেই বৈদেশিক নীতির ভিত্তি করতে চান।