রান্নার গ্যাসে বিরাট বদল! পিএনজি না নিলে চিরতরে বন্ধ হবে এলপিজি সিলিন্ডার?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত সরকারের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছানোর পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে গৃহস্থদের বাধ্যতামূলকভাবে ওই পরিষেবা নিতে হবে। যদি কোনো পরিবার পিএনজি নিতে অস্বীকার করেন, তবে আগামী তিন মাস পর থেকে তাদের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বা এলপিজি (LPG) পরিষেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ। এর ফলে ভারত অভিমুখে আসা এলপিজি বাহী জাহাজ চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহে। বাণিজ্যিক ও ঘরোয়া—উভয় ক্ষেত্রেই বুকিং নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সমস্যা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ নির্দেশিকা ২০২৬’ জারি করেছে কেন্দ্র।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কোনো পরিবার বা আবাসন যদি পিএনজি সংযোগে রাজি না হয়, তবে তেল সংস্থাগুলি তাদের নোটিশ পাঠাবে এবং তিন মাস পর বুকিং বন্ধ করে দেবে। এমনকি হাউজিং কমপ্লেক্সগুলি যদি পাইপলাইন বসানোর অনুমতি না দেয়, তবে সেখানেও এলপিজি সরবরাহ বন্ধ হবে। তবে প্রক্রিয়াটি সহজ করতে বলা হয়েছে, আবেদনের তিন দিনের মধ্যে অনুমতি এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিকাঠামো তৈরি করে পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, এই সংকটকে কাজে লাগিয়েই সারা দেশে পাইপড গ্যাস নেটওয়ার্ক দ্রুত ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। পুরো বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পেট্রোলিয়াম এবং ন্যাচরাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ডকে (PNGRB)।