ভবানীপুরে মহাযুদ্ধ! শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ সামলাতে মমতার ‘মাস্টারপ্ল্যান’, মাঝরাতে বদলে গেল সমীকরণ?

২০২৬-এর নির্বাচনী রণদামামা বেজে গেল খাস কলকাতায়। তবে এবার কোনো মেগা র্যালি বা রোড-শো নয়, নিজের দুর্গ ভবানীপুর থেকেই অতি সতর্কভাবে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় অহিন্দ্র মঞ্চে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে কার্যত প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও না ছাড়ার বার্তা দিলেন তিনি।
ভবানীপুর: মর্যাদার লড়াই ও শুভেন্দু ফ্যাক্টর ভবানীপুর এবার স্রেফ একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, বরং হাই-ভোল্টেজ এক ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। কারণ, এখানে মমতার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী—যিনি গতবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীকে টেক্কা দিয়েছিলেন। দুই হেভিওয়েটের এই টক্কর বাংলার রাজনীতির পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোটার তালিকায় বড় ‘গন্ডগোল’? দুশ্চিন্তায় ঘাসফুল শিবির বৈঠকের অন্দরের খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন ভোটার তালিকা।
-
৪৫ হাজার ভোটারের নাম এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে।
-
আরও ১৪ হাজার ভোটারের নাম নিয়ে চলছে আইনি টানাপোড়েন। ২০২১-এর উপনির্বাচনে মমতা ৫৮ হাজার ভোটে জিতলেও, এবারের এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের কাটছাঁট জয়ের ব্যবধানে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অভিষেককে পাশে নিয়ে রণকৌশল এদিনের বৈঠকে মমতার পাশেই ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথ স্তরের কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আগামী ২৪ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে আসল লড়াই:
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ঝোড়ো প্রচারে পাড়ি দিচ্ছেন উত্তরবঙ্গে।
-
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: একই দিন থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শুরু করছেন জনসভা।
পাল্টা ঘুঁটি বিজেপিরও তৃণমূল যখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন বসে নেই গেরুয়া শিবিরও। আগামী ২৪ মার্চ কলকাতায় পা রাখছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক নীতিন নবীন। মূলত বুথ স্তরের কাজ তদারকি এবং চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতেই তাঁর এই সফর।
সব মিলিয়ে চৈত্র মাসের তপ্ত রোদের আগেই বাংলার রাজনীতির ময়দান এখন ফুটছে। ভবানীপুরের সিংহাসন কার দখলে থাকবে, সেটাই এখন দেখার।