রক্তাক্ত মুর্শিদাবাদ! গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে ৫ শিশুকে পিষল ঘাতক যান, মৃত ২

ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে নেমে এল শ্মশানের নীরবতা। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে গাড়ি চালানো শিখতে গিয়ে ঘটে গেল এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। এক যুবকের আনাড়ি হাতে স্টিয়ারিং থাকাই কাল হল পাঁচ শিশুর জীবনে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাতক গাড়িটি পিষে দিল রাস্তার ধারে খেলতে থাকা শিশুদের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছে আরও একজন। এই ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ধুলিয়ান পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘরি এলাকা।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত বিকেলে? রবিবার বিকেলে দিঘরি এলাকায় জনাকয়েক যুবক একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, চালকের আসনে বসে গাড়ি চালানো শিখছিল এক যুবক। সরু রাস্তায় হঠাতই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সে। রাস্তার পাশে একটি দোকানের সামনে বসে খেলছিল পাঁচ শিশু। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড গতিতে গাড়িটি তাদের ওপর উঠে যায়। শিশুদের চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা।
মৃত ও আহতদের পরিচয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই শিশুর নাম আহিল আক্তার (৬) এবং সমীর শেখ (৯)। আহিল স্থানীয় ঘনশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সমীরের বাড়ি দিঘরিতে। দুর্ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের অনুপনগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা আহিলকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বহরমপুরে রেফার করা হয়, কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় সমীরের। বাকি তিন শিশু এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
তদন্ত ও উত্তেজনা দুর্ঘটনার পরই ঘাতক গাড়িটি ফেলে রেখে চম্পট দেয় চালক ও তার সঙ্গীরা। উত্তেজিত জনতা এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করলে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন দিঘরি ও ঘনশ্যামপুর গ্রামের মানুষ। শোকাতুর পরিবারগুলির কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সামশেরগঞ্জের বাতাস।