যাদবপুর ফেরাতে মরিয়া বামেরা! সুজনকে পাশে নিয়ে পথে নামলেন বিকাশরঞ্জন, লাল ঝান্ডায় কি ফিরবে হারানো জমি?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারানো জমি ফিরে পেতে এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে বামেরা। বিশেষ করে এক সময়ের ‘লাল দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না আলিমুদ্দিন। রবিবার ছুটির দিনে যাদবপুরের বিজয়গড় এলাকায় প্রচারে ঝড় তুললেন সিপিআইএম প্রার্থী তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পা মেলালেন দলের অভিজ্ঞ নেতা সুজন চক্রবর্তী।

বিকাশ-সুজন জুটির প্রচার কৌশল এদিন সকাল থেকেই যাদবপুরের অলিগলিতে ভোটারদের দুয়ারে পৌঁছান বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। মূলত জনসংযোগেই জোর দিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে সুজন চক্রবর্তীর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, যাদবপুর কেন্দ্রটি বামেদের কাছে কেবল একটি আসন নয়, এটি তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও আবেগের জায়গা। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার পর এবার অভিজ্ঞ মুখ বিকাশরঞ্জনকে সামনে রেখে মধ্যবিত্ত ও চাকুরিজীবী ভোটারদের মন জয় করতে চাইছে সিপিএম।

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন সোমবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু ও রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম যে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছেন, তাতে বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা গিয়েছে। তালিকায় একদিকে যেমন কলতান দাশগুপ্ত, সপ্তর্ষি দেব, দীপ্সিতা ধর এবং সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তরুণ তুর্কিরা রয়েছেন, তেমনই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও মানস মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণদের ওপরও ভরসা রেখেছে দল। বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন নদিয়ার কালীগঞ্জের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন, যিনি লোকসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় নিহত শিশুকন্যা তমান্নার মা।

দুই দফায় ভোট, নজরে কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের ভোট হবে মাত্র দুই দফায়। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল-সহ ১৬ জেলায় ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় দফায় কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া-সহ ৭ জেলায় ভোটগ্রহণ ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ফলাফল। কমিশন সাফ জানিয়েছে, দফার সংখ্যা কম হলেও বাংলার হিংসার ইতিহাস মাথায় রেখে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এখন দেখার, এই আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার মাঝে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যাদবপুরের লাল নিশান পুনরায় ওড়াতে পারেন কি না।