ভবানীপুরের বৈঠকে মমতার ‘সারপ্রাইজ কল’! শুভেন্দুকে রুখতে ফিরহাদ-সুব্রতকে কী ‘মন্ত্র’ দিলেন দিদি?

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ লড়াই শুরু হওয়ার আগেই তপ্ত ভবানীপুর। একদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘ওয়ার রুম’ প্রস্তুতি, অন্যদিকে ঘরের দুর্গ বাঁচাতে তৃণমূলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির অফিসে ভবানীপুরের কৌশল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বেজে উঠল ফোন। ওপারে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! ভোটের রণকৌশল থেকে শুরু করে জনসংযোগ—ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সিকে জয়ের বিশেষ ‘মন্ত্র’ দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
বিজেপির কাঁটা উপড়াতে মরিয়া তৃণমূল: পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই ভবানীপুরের ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি বেশ শক্তিশালী। এমনকি সেবার তথাগত রায় তৃণমূলের সুব্রত বক্সিকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। এই পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই শুভেন্দু অধিকারী এবার মমতার গড়ে থাবা বসাতে চাইছেন। পালটা চালে তৃণমূল এবার স্লোগান তুলেছে— ‘‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’’।
বৈঠকের প্রধান নির্যাস ও মমতার নির্দেশ:
-
ডোর টু ডোর প্রচার: কেবল মিছিল নয়, নিবিড় জনসংযোগে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে একই বাড়িতে ১০ বার যেতে হবে কর্মীদের।
-
শুভেন্দুকে ‘উপেক্ষা’: সুব্রত বক্সি ও ফিরহাদ হাকিম কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারীকে প্রচারে কোনও গুরুত্ব দেওয়া যাবে না। কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না।
-
দায়িত্ব বন্টন: ৭০, ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভালের দায়িত্বে থাকবেন সুব্রত বক্সি। অন্যদিকে ৭৩, ৮২ ও ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব সামলাবেন ফিরহাদ হাকিম।
-
বহুতল আবাসনে বিশেষ নজর: ভবানীপুরের বহুতলগুলোতে প্রচারের ফাঁক ভরাট করতে কাউন্সিলরদের সরাসরি ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় রদবদল ও শুভেন্দুর ওয়ার রুম: শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়া রোডে নিজের ‘ওয়ার রুম’ সাজিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ভবানীপুরের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডেও বহু নাম কাটা পড়েছে। মমতা নিজে কেন্দ্রীয়ভাবে সভা ও মিছিল করবেন বলে বৈঠকে স্থির হয়েছে। ঘরের মেয়ে নিজের গড় রক্ষা করতে পারেন নাকি শুভেন্দু অধিকারী নতুন ইতিহাস গড়েন, সেটাই এখন দেখার।