ডিএ আন্দোলনের মাসুল? বাংলার হাজার হাজার সরকারি কর্মীর বেতন কাটার নির্দেশ, মাথায় হাত কর্মচারীদের!

বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। আগামী এপ্রিল মাসের বেতন হাতে পাওয়ার সময় বড়সড় ধাক্কা খেতে পারেন রাজ্যের কয়েকশো সরকারি কর্মী। নবান্ন সূত্রে খবর, গত ১৩ মার্চ যারা ডিএ-র দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন, তাঁদের সেই দিনের বেতন কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ডিএ বৃদ্ধির আবহে এই বেতন কাটার খবর সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে।
কেন কাটা হচ্ছে বেতন? গত ১৩ মার্চ, শুক্রবার বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্যজুড়ে পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চসহ একাধিক কর্মচারী সংগঠন। নবান্ন আগেভাগেই নির্দেশিকা (Memo No. 968-F(P2)) জারি করে জানিয়েছিল যে, ওই দিন কোনো সরকারি কর্মীকে ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনো ছুটি দেওয়া হবে না। যারা ওই দিন অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সেই অনুপস্থিতিকে ‘ডাইস-নন’ (Dies-non) হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ দপ্তর। এর ফলে ওই দিনের বেতন যেমন কাটা যাবে, তেমনি চাকরিতে ‘ব্রেক ইন সার্ভিস’ হিসেবেও এটি রেকর্ড করা হবে।
কড়া শাস্তির মুখে কর্মীরা: ইতিমধ্যেই অনুপস্থিত কর্মীদের তালিকা প্রস্তুত করে ৩০ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএ আন্দোলনের অগ্রণী মুখ ভাস্কর ঘোষরা যখন নিজেদের দাবিতে অনড়, তখন নবান্নও কড়া অবস্থান নিয়েছে। অনুপস্থিত কর্মীদের ‘শো-কজ’ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে শুধু বেতন কাটাই নয়, বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: নবান্নের এই কড়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার কারণে কোনো কর্মীর বেতন কাটা হলে বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সবরকম আইনি সহায়তা দেবেন। তবে নবান্ন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এপ্রিল মাসে সরকারি কর্মীদের পকেটে টান পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।