আরসালানে জ্বলছে কাঠ, ভাঁটা পড়ছে দাদা-বৌদির হেঁশেলে! যুদ্ধের আঁচে ‘আউট অফ অর্ডার’ কলকাতার বিরিয়ানি

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি থাবা বসালো ভোজনরসিক বাঙালির প্রিয় বিরিয়ানির হাঁড়িতে। জ্বালানি গ্যাস বা এলপিজি-র তীব্র সঙ্কটে নাভিশ্বাস উঠছে কলকাতার নামী দামী রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাড়ার ছোট বিরিয়ানির দোকানগুলির। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, আধুনিক গ্যাস ওভেনের বদলে ফিরে আসতে হচ্ছে সাবেক কাঠের উনুনে।
আরসালান ও দাদা-বৌদির হালচাল
পার্ক সার্কাসের বিখ্যাত আরসালান রেস্তোরাঁয় ডিস্ট্রিবিউটররা গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় এখন কাঠ পুড়িয়ে বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে। ম্যানেজার সৈয়দ মুজাম্মেল হকের মতে, কাঠের জ্বালে রান্না করতে আগের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি সময় লাগছে, যা চাহিদার তুলনায় জোগানকে কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যারাকপুরের আইকনিক দাদা বৌদি হোটেল-এর কর্ণধার সঞ্জীব সাহা জানিয়েছেন, হাতে থাকা মজুত গ্যাস ফুরিয়ে গেলে বিরিয়ানির প্রোডাকশন কমিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
কালোবাজারি ও ছোট ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
গ্যাসের অভাবকে পুঁজি করে চলছে চরম কালোবাজারি। শ্রীরামপুরের বিরিয়ানি বিক্রেতা সাহিল আফ্রিদির অভিযোগ, ২৫০০ টাকা দিয়েও সময়মতো সিলিন্ডার মিলছে না। এই অস্বাভাবিক খরচ বহন করতে গিয়ে ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক ছোট দোকানের।
নবান্নের বিশেষ নির্দেশিকা (SOP)
পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর নবান্ন থেকে একটি SOP (Standard Operating Procedure) জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
স্কুলগুলোতে মিড-ডে মিলের জোগান অব্যাহত রাখতে হবে।
হাসপাতাল, ICDS সেন্টার এবং সাধারণ মানুষের গৃহস্থালির গ্যাসের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু-মোজতাবাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের খেসারত দিতে হচ্ছে কলকাতার বিরিয়ানি প্রেমীদের। সুগন্ধি চাল আর জাফরানি রঙের আভিজাত্য এখন যুদ্ধের কালো ধোঁয়ায় ম্লান হওয়ার মুখে।