কিউআর কোড স্ক্যান করতেই ফাঁকা হচ্ছে অ্যাকাউন্ট! জালিয়াতির নতুন ফাঁদ থেকে বাঁচবেন কী ভাবে?

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে পকেটে নগদ টাকা না থাকলেও চলে, কিন্তু স্মার্টফোনে একটা ইউপিআই (UPI) অ্যাপ থাকা মাস্ট। চা-এর দোকান থেকে শপিং মল—সব জায়গাতেই কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করে পেমেন্ট করা এখন জলভাত। কিন্তু এই সুবিধাই এখন সাইবার অপরাধীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে ডাক্তার সেজে হাসপাতালের কিউআর কোড বদলে রোগীদের পরিবারকে লুঠ করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
কীভাবে হচ্ছে এই জালিয়াতি? জালিয়াতির ধরন অত্যন্ত চতুর। জালিয়াতিরা আসল কিউআর কোডের ওপর হুবহু দেখতে একটি নকল কিউআর কোড স্টিকার সেঁটে দেয়। আপনি যখন স্ক্যান করছেন, টাকাটা দোকানদারের বদলে চলে যাচ্ছে প্রতারকের অ্যাকাউন্টে। অনেক সময় ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস-এর মাধ্যমে কিউআর কোড পাঠিয়ে লটারি জেতা বা কেওয়াইসি (KYC) আপডেটের প্রলোভন দেওয়া হয়।
স্ক্যান করার আগে যা অবশ্যই মাথায় রাখবেন:
-
স্টিকার পরীক্ষা করুন: পেমেন্ট করার আগে দেখুন কিউআর কোডটি কোনো প্লাস্টিক বোর্ড বা স্টিকারের ওপর অন্য কোনো স্টিকার দিয়ে ঢাকা কি না। খসখসে বা আলগা মনে হলে এড়িয়ে চলুন।
-
নাম মিলিয়ে নিন: স্ক্যান করার পর মোবাইলের স্ক্রিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দোকানের নাম ফুটে ওঠে। টাকা পাঠানোর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন নাম সঠিক আছে কি না।
-
ইউআরএল (URL) চেক করুন: অনেক সময় কিউআর কোড স্ক্যান করলে কোনো ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বানান ভালো করে দেখুন। যেমন
google.com-এর বদলেg00gle.comথাকলে বুঝবেন আপনি বিপদে পা দিচ্ছেন। -
টাকা নিতে কোড লাগে না: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, কিউআর কোড স্ক্যান করলে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা যায়, আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে না। কেউ যদি টাকা পাঠানোর নাম করে আপনাকে কোড স্ক্যান করতে বলে, তবে বুঝবেন সেটি নিশ্চিত জালিয়াতি।
সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন? সব সময় Google Pay, PhonePe বা Paytm-এর মতো বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করুন। ফোন ক্যামেরার প্রিভিউ লিঙ্কটি আগে পড়ুন। কোনওভাবে প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ ব্যাঙ্কের হেল্পলাইনে বা সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানান। মনে রাখবেন, আপনার সামান্য অসতর্কতাই কিন্তু আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয় নিমেষে উধাও করে দিতে পারে।