সিলিন্ডার ছাড়াই জ্বলছে স্টোভ! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের বাজারে কাঁকসার এই ‘মডেল’ কি হবে ভবিষ্যতের দিশারি?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়ায় একলাফে বাণিজ্যিক ও ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আকাশছোঁয়া। যখন গোটা দেশ জ্বালানি সংকটে দিশেহারা, ঠিক তখনই পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর গ্রামের গড়াই পরিবার দেখিয়ে দিল বিকল্প পথের দিশা।

বিনা খরচে রান্নার জাদু: গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রনাথ গড়াই এবং আমজান গড়াই—এই দুই পরিবার বহু পুরনো ‘বায়ো গ্যাস’ বা গোবর গ্যাসের প্রযুক্তিতে আস্থা রেখেছেন। তাঁদের বাড়িতে থাকা গবাদি পশুর গোবরকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা তৈরি করছেন রান্নার গ্যাস। বাড়ির পাশেই তৈরি করা হয়েছে বিশেষ চেম্বার বা প্লান্ট। সেখানে গোবর সঞ্চয় করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গ্যাস উৎপাদন করা হয়, যা পাইপের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে রান্নাঘরের ওভেনে। ক্ষেত্রনাথবাবু জানান, “এই পদ্ধতিতে রান্নার জন্য আমাদের এক পয়সাও খরচ করতে হয় না। বাজার থেকে চড়া দামে সিলিন্ডার কেনার দুশ্চিন্তাও নেই।”

প্রশাসনিক তৎপরতা: তবে দীর্ঘদিনের পুরনো এই প্লান্টগুলোর এখন সংস্কার প্রয়োজন। আমজান গড়াইয়ের কথায়, “আমাদের চারটে গরু আছে, প্রচুর গোবর হয়। কিন্তু প্লান্ট পুরনো হওয়ায় গ্যাস ধরে রাখার ক্ষমতা কমেছে। সরকারি সাহায্য পেলে এই ব্যবস্থাকে আরও বড় করা সম্ভব।” এই খবর কানে যেতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন। যদি এই মডেলকে বড় আকারে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় এটি একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে।