“তোমাকে একা ফেলে দেব!” নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, যুদ্ধের ময়দানে নিঃস্ব ইসরায়েল?

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ১০০ দিন পার হতেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় বদল দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে যে ইসরায়েলের পাশে যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো ছিল, আজ সেই ইসরায়েলই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কার্যত একঘরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর মনোভাব এবং আরব বিশ্বের দূরত্ব ইসরায়েলকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে। জানা গেছে, সোমবার ট্রাম্প ফোনে নেতানিয়াহুকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আপনাকে একা ফেলে দেওয়া হবে। যুদ্ধে কেউ আপনার পাশে থাকবে না। এখনই ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করুন এবং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে আসুন।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর দাবি, লেবানন ইস্যু এবং যুদ্ধের কৌশল নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ট্রাম্পের এই মনোভাব স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েলের একগুঁয়েমি ওয়াশিংটন আর সমর্থন করছে না।
ইসরায়েল কেন আজ বিচ্ছিন্ন? বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের এই বিচ্ছিন্নতার পেছনে প্রধানত চারটি কারণ চিহ্নিত করছেন:
-
লক্ষ্যের অমিল: যুক্তরাষ্ট্র চাইছে শুধু পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ইরান এবং তার প্রক্সি শক্তিগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে মরিয়া, যা মার্কিন কৌশলের পরিপন্থী।
-
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ: সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এই অঞ্চলে যুদ্ধ চায় না। ট্রাম্প বারবার নেতানিয়াহুকে অন্যদের মতামতের গুরুত্ব দিতে বললেও ইসরায়েল নিজের অবস্থানে অনড়।
-
আস্থার সংকট: নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের মিথ্যা দাবির পর থেকেই আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরায়েলের দূরত্ব বেড়েছে। এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর আঘাত হেনেছে।
-
ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব: মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিক ইলন পিনকাসের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখন তলানিতে। ট্রাম্পের স্পষ্ট মন্তব্য, “আমার অনুগ্রহ না থাকলে তুমি জেলে থাকতে,” দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ের সম্পর্কের অবনতির চরম বহিঃপ্রকাশ।
ভবিষ্যৎ কী? ইসরায়েলি বিরোধী নেতারা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে তাদের সার্বভৌমত্বের অপমান হিসেবে দেখছেন। কিন্তু তাতেও নেতানিয়াহুর যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব কমেনি। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। একদিকে ইরানের মোকাবিলা এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মিত্রদের ক্রমশ হারিয়ে ইসরায়েল এখন এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।