কলকাতায় হাহাকার! বন্ধ হতে পারে ডেকার্স লেনের ঝাঁপ? গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার খোদ কলকাতার হেঁশেলে! আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তিলোত্তমার বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, কলকাতার স্ট্রিট ফুডের মক্কা হিসেবে পরিচিত ডেকার্স লেন থেকে শুরু করে শহরের বড় বড় রেস্তোরাঁগুলোর উনুন জ্বলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কেন এই সঙ্কট? পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচারাল গ্যাস মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির ঘাটতি ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ক্রমাগত সংঘাতের কারণে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম যেমন আকাশছোঁয়া হয়েছে, তেমনই জোগানও তলানিতে এসে ঠেকেছে।
আতঙ্কে ডেকার্স লেনের ব্যবসায়ীরা: অফিস পাড়ার প্রিয় গন্তব্য চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পন্ডিত অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান, “এভাবে চলতে থাকলে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে। প্রতিদিন গ্যাসের দাম বাড়ছে, আর সাপ্লাই কমছে। গোলাগুলি যত বাড়ছে, ততই সঙ্কটে পড়ছে আমাদের ব্যবসা। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না।” একই সুর শোনা গেল অন্য এক নামী দোকানের মালিক সুশান্ত হালদারের গলায়। তাঁর অভিযোগ, বাজারে ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস কালোবাজারি হতে শুরু করেছে। পরিবেশ দূষণ রোধে কয়লার উনুন ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাই গ্যাসের বিকল্প না থাকায় দিশেহারা ব্যবসায়ীরা।
অ্যাসোসিয়েশনের আর্জি: হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, তেল সংস্থাগুলো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে আগামীকাল থেকে হয়তো নতুন করে আর সাপ্লাই আসবে না। স্টকে যা আছে তা ফুরিয়ে গেলেই মহাবিপদ। সংস্থার তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে যাতে ন্যূনতম সরবরাহটুকু বজায় রাখা হয়।
যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে কেবল রসনাতৃপ্তিই বাধা পাবে না, কলকাতার কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং পর্যটন শিল্পও বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়বে। আপাতত সবার চোখ এখন দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে।