শিশুর মাংস খেতেন ডিক্যাপ্রিও? এপস্টিন ফাইল নিয়ে নেটপাড়ায় ভয়ংকর দাবি! জানুন ভাইরাল খবরের আসল সত্য

অস্কারজয়ী হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে ঘিরে এক কদর্য ও বিভৎস বিতর্কে উত্তাল সমাজমাধ্যম। এক্স (সাবেক টুইটার), টিকটক ও ফেসবুকে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়া একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সদ্য প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে ডিক্যাপ্রিওর বিরুদ্ধে “শিশুর মাংস খাওয়া”-র মতো হাড়হিম করা অভিযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলি তদন্তের পর জানিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো।
মূলত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে আদালতের যে গোপন নথি জনসমক্ষে এসেছে, সেখানে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে কিছু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচারকারী গোষ্ঠী। তারা ভুয়ো স্ক্রিনশট তৈরি করে প্রচার করছে যে, ডিক্যাপ্রিও নরখাদকতার মতো অপরাধে লিপ্ত। কিন্তু বাস্তবের আদালতের নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই। নথিতে অভিনেতার নাম এসেছে শুধুমাত্র সামাজিক ও পেশাগত প্রসঙ্গের কিছু ইমেল বিনিময়ে, যেখানে তাঁকে কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার বা নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০০৯ এবং ২০১৬ সালের কিছু সাধারণ ইমেলকে বিকৃত করে এই ‘নরখাদক’ তত্ত্ব সাজানো হয়েছে। এপস্টিন তালিকায় নাম থাকা মানেই যে কেউ অপরাধী, এমনটা নয়। পরিচালক মীরা নায়ার বা নন্দিতা দাসের নামও সেই তালিকায় এসেছে শুধুমাত্র যোগাযোগ থাকার সূত্রে। ডিক্যাপ্রিও-র ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই। কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোর কোনো প্রমাণ মেলেনি। ভাইরাল হওয়া এই অভিযোগটি মূলত গুজব ও বিকৃত মানসিকতার একটি ‘ককটেল’ ছাড়া আর কিছুই নয়।