আগুনের ওপর দাঁড়িয়ে রোগী পরিষেবা? ফায়ার সেফটি ফেল করা বিল্ডিং নিয়ে কড়া পদক্ষেপের পথে সরকার

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোর অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে চরম গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসল স্বাস্থ্য ভবন। ফায়ার সেফটি বা অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘ঢিলেঢালা’ মনোভাব এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে রীতিমতো ক্ষুব্ধ দফতর। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ এবং জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) কড়া ভাষায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবনের স্ক্যানারে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল লেভেল ফায়ার সেফটি কমিটির ইন্সপেকশন রিপোর্টে যা উল্লেখ রয়েছে, স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো রিপোর্টে তা গোপন করা হচ্ছে। এমনকি, যে তারিখে পরিদর্শন করা হয়েছে, নথিতে সেই তারিখ বদলে অন্য তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর। বহু হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সেফটি ক্লিয়ারেন্স নেই। কোনো কোনো হাসপাতালের একটি বিল্ডিং পাস করলেও অন্যটি নিরাপত্তার পরীক্ষায় ফেল করেছে। বিশেষ করে পুরনো ও ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত হাসপাতাল বিল্ডিংগুলোতে কোনোভাবেই ফায়ার সেফটি প্রোটোকল মানা হচ্ছে না বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

এই জালিয়াতি ও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের হাসপাতাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্রাঞ্চ। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত সরকারি হাসপাতালকে নতুন করে ইন্সপেকশন করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে সঠিক রিপোর্ট না পৌঁছায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘নন-কমপ্লায়েন্স’ বা নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার সকালেই কলকাতার আনন্দপুরের অভিজাত আবাসন ‘আরবানা কমপ্লেক্স’-এর ৮ নম্বর টাওয়ারের ৫তলায় আগুন লাগে। যদিও আবাসনের নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও দমকলের ২ টি ইঞ্জিনের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তবে গত জানুয়ারি মাসে এই আবাসনের পিছনের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ৩০ জনেরও বেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষত এখনও দগদগে। শহরের একের পর এক অগ্নিকাণ্ড যখন জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছে, তখন সরকারি হাসপাতালের এই পরিকাঠামো সংকট সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।