ভাঁড় বেচে দিনে আয় ২০০, জিএসটি নোটিস এল সোয়া কোটি টাকার! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল উত্তরপ্রদেশের কুমোরের

উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলীর হরচন্দ্রপুর গ্রাম। ধুলোমাখা হাতে চাকা ঘুরিয়ে মাটির ভাঁড় তৈরি করেন মহম্মদ সইদ। প্রতিটি ভাঁড় পিছু আয় মাত্র দু’টাকা। নুন আনতে পান্তা ফুরানো এই সংসারে হঠাৎই যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! ভারত সরকারের জিএসটি দফতর থেকে সইদকে ধরানো হয়েছে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার বকেয়া কর মেটানোর নোটিস। যে অঙ্কের টাকা গুনতে গেলেও হিমশিম খেতে হবে পাঁচজনের এই দরিদ্র পরিবারকে।
ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা গেছে, মহম্মদ সইদ এক বিশাল জালিয়াতির শিকার। জিএসটি নোটিসে দাবি করা হয়েছে, সইদ বিহারের পাটনায় চারটি বড় সংস্থার মালিক এবং সেখান থেকেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অথচ বাস্তবের সইদ কোনোদিন পাটনাতেই যাননি। সইদ জানান, কয়েক বছর আগে লোনের আশায় গ্রামেরই এক ব্যক্তির সাহায্যে প্যান (PAN) ও আধার কার্ড তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে সেই নথিগুলি হারিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই নথির অপব্যবহার করেই তাঁর নামে ভুয়ো সংস্থা খোলা হয়েছে।
অশিক্ষিত হওয়ার কারণে ছ’মাস আগে আসা প্রথম নোটিসটি গুরুত্ব দিতে পারেননি সইদ। কিন্তু গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পুনরায় নোটিস আসায় শিক্ষিত প্রতিবেশীদের দ্বারস্থ হন তিনি। তখনই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে সইদ বলেন, “আমার চার-চারটি কোম্পানি আছে এটা শুনেই আমি স্তম্ভিত। আমরা বড় প্রতারণার শিকার হয়েছি।” বর্তমানে জেলাশাসকের কাছে তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন এই কুমোর। এই ঘটনা ফের একবার দেশের আধার ও প্যান কার্ডের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে চলা বড়সড় জিএসটি জালিয়াতির দিকটি সামনে নিয়ে এল।