CPIM-এ মহাবিদ্রোহ! ভোটের আগে সেলিমের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠালেন ‘প্রভাবশালী’ প্রতীক উর, নেপথ্যে কি শতরূপ?

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল আলিমুদ্দিন। রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়ে সিপিআইএম (CPIM)-এর রাজ্য কমিটি ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তিনি আর মানিয়ে নিতে পারছেন না।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে বিবাদের মেঘ জমছিল। বিশেষ করে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠক এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রমকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরেই আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়। এই ইস্যুতে দলের মুখপাত্র শতরূপ ঘোষের একটি মন্তব্যের পাল্টা পোস্ট করেছিলেন প্রতীক। শতরূপ বলেছিলেন, “সমস্ত নীতি-নৈতিকতার ঠেকা কি শুধু সিপিএম-ই নিয়ে রেখেছে?” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই প্রতীক উর সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “নীতি-নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক, কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।” সরাসরি নাম না নিলেও, রাজনৈতিক মহলের দাবি ছিল— প্রতীকের নিশানায় ছিলেন খোদ শতরূপ ঘোষ।
মানসিক দ্বন্দ্ব ও ইস্তফাপত্র: রবিবার মহম্মদ সেলিমকে পাঠানো সেই চিঠিতে প্রতীক উর রহমান অত্যন্ত আবেগঘন কিন্তু কড়া ভাষায় তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে আমি নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারছি না। এক গভীর মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে আমাকে দিন কাটাতে হচ্ছে।” এই মানসিক অস্থিরতা থেকেই তিনি দলের জেলা কমিটি, রাজ্য কমিটি এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই প্রতীকের এই ইস্তফাপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তবে ভোটের মুখে প্রতীক উর রহমানের মতো ছাত্র-যুব সংগঠনের পরিচিত মুখ এবং প্রভাবশালী নেতার প্রস্থান সিপিআইএম-এর জন্য বড় ক্ষতি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এখন দেখার, সেলিম