ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘ইউ-টার্ন’! নেপথ্যে বাংলাদেশের মাস্টারস্ট্রোক?

ক্রিকেট বিশ্বে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানাপোড়েনের অবশেষে অবসান ঘটল। নিরাপত্তা ও সংহতির দোহাই দিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের যে ঘোষণা পাকিস্তান দিয়েছিল, তা থেকে সরে এসেছে তারা। এই নাটকীয় মোড় বদলের নেপথ্যে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ঘটনার সূত্রপাত ও বাংলাদেশের সংহতি: নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ভারত সফর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। আইসিসি সেই দাবি না মানলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হয় স্কটল্যান্ড। পাকিস্তানের পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি একে আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’ বলে আখ্যা দেন। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তানও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এজন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

বিসিবির অনুরোধ ও কূটনৈতিক সমাধান: পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে সোমবার রাতে। আইসিসি এবং পিসিবি-র বৈঠকের আগে বিসিবি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেন ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার জন্য।

কেন এই পরিবর্তন? কী পেল বাংলাদেশ?

  • শাস্তি মকুব: টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশের ওপর বড় অংকের জরিমানার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

  • ভবিষ্যৎ আয়োজন: ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রাথমিক আশ্বাস পেয়েছে বিসিবি।

  • দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনা: পাকিস্তান শর্ত না দিলেও, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে।

লাহোরে পিসিবি, বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর পাকিস্তান সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ফলে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।