“আমি নিঃস্ব, কোনো বন্ধু নেই!” তিহার জেলে আত্মসমর্পণের আগে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাজপাল যাদব

পর্দার সামনে যাঁকে দেখে সারা ভারত হাসিতে ফেটে পড়ে, সেই রাজপাল যাদবের বাস্তব জীবনটা এখন চরম বিষাদময়। অবশেষে আইনি লড়াইয়ে হার মেনে দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করলেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। ২০১০ সাল থেকে চলা একটি ২.৫ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর সময় বাড়ানোর আবেদন খারিজ করার পরই এই নাটকীয় মোড় আসে। এর মাধ্যমেই অভিনেতার দীর্ঘদিনের আইনি টানাপোড়েনের অবসান ঘটল, তবে তার পরিণতি হলো কারাবাস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের ঠিক আগে রাজপাল যাদব প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আদালতের নির্দেশ আসার পর তিনি কার্যত ভেঙে পড়ে বলেন, “স্যার, আমি কী করব? আমার কাছে টাকা নেই। আর কোনো উপায় দেখছি না… স্যার, এখানে আমরা সবাই একা। কোনো বন্ধু নেই। এই সংকট আমাকে একাই মোকাবিলা করতে হবে।” হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নিঃস্ব মানুষের এই হাহাকার এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই সংকটের সূত্রপাত ১৫ বছর আগে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লে তিনি চরম আর্থিক অনটনে পড়েন। এরপর ঋণ শোধ করতে তাঁর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করে। ২০১৮ সালে আদালত রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাসের সাজা দিলেও, আপিলের পর আপিল করে তিনি সময় নিয়েছিলেন। তবে শেষরক্ষা হলো না। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা তাঁর শেষ আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে জানান, জনপরিচিতি থাকলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। বকেয়া মেটানোর জন্য আর এক মুহূর্ত সময় না দিয়ে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।