বিকাশ ভট্টাচার্যের আসনে এবার মিঠুন? রাজ্যসভা নিয়ে বিজেপির অন্দরে প্রবল সংঘাত, তালিকায় লকেটও!

বাংলার রাজনীতিতে ফের এক ‘মেগা টুইস্ট’-এর ইঙ্গিত! আলোচনার কেন্দ্রে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, এপ্রিল মাসে রাজ্যে খালি হতে চলা রাজ্যসভার পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে মিঠুনকে প্রার্থী করার জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছে বিজেপির দিল্লি লবি। বিশেষত, সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হতে চলা আসনটিতে ‘মহাগুরু’কে বসিয়ে বামেদের সংসদীয় উপস্থিতি পুরোপুরি ‘শূন্য’ করে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

তবে মিঠুনের নাম আসতেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে সমীকরণ জটিল হতে শুরু করেছে। দলের একাংশ মনে করছেন, লকেট চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানো বেশি ফলদায়ক হবে। তাঁদের যুক্তি, সাংসদ থাকাকালীন লকেট দিল্লির নেতৃত্বের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন এবং বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক কাজে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যসভার একটি আসন জিততে ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বিধানসভার বর্তমান শক্তিতে বিজেপির একটি আসনে জয় নিশ্চিত। দিল্লি লবি মনে করছে, মিঠুনকে রাজ্যসভায় পাঠালে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে সারা রাজ্যে প্রচারের মুখ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এমনকি ভবিষ্যতে রাজ্যে সরকার গড়ার পরিস্থিতি এলে বা দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিলে, মিঠুনকে ‘বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেও প্রজেক্ট করার সুযোগ থাকবে। তাঁর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসা কঠিন হতে পারে, তাই রাজ্যসভা তাঁর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

অন্যদিকে, লকেট চট্টোপাধ্যায় আগামী বিধানসভা ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিলেও তাঁর জয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা, অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় বা অশোক লাহিড়ীর মতো নামগুলিও। উল্লেখ্য, মিঠুনকে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তিনি ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার পুরনো সেই কক্ষেই গেরুয়া উত্তরীয় পরে মিঠুন ফিরবেন কি না, তা নিয়ে নবান্ন থেকে দিল্লি— সর্বত্র এখন টানটান উত্তেজনা।