এক বাবার ২০০ সন্তান! শোরগোল ফেলা ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি জালিয়াতদের হানা?

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘সার’ (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য সামনে আসছে। নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভাররা ‘সুপার চেকিং’-এর সময় এমন কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন, যা দেখে রীতিমতো হতবাক দুঁদে কর্মকর্তারা। বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার মঞ্জুরানি সাহার নাম খসড়া তালিকায় দেখে সন্দেহ হয় কমিশনের। তদন্তে দেখা যায়, মঞ্জুরানি কেবল বারাসতের নন, তিনি বাংলাদেশের ঢাকার নারায়ণগঞ্জেরও নিবন্ধিত ভোটার। একই ব্যক্তি দুই দেশের ভোটার তালিকায় কীভাবে নাম তুললেন, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মঞ্জুরানি সাহা একা নন, লক্ষাধিক এমন নাম রয়েছে যেখানে সরাসরি বাংলাদেশি যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, বহু বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসার বা ব্যবসার বাহানায় এ দেশে এসে জাল নথির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। এদের চিহ্নিত করতে এখন ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-র সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল পড়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিবিরোধী তথ্যের বহর দেখে। বীরভূমের নানুরে এক ব্যক্তির ৩৮৯ জন সন্তান দেখানো হয়েছে এনিউমারেশন ফর্মে! হাওড়ার সাঁকরাইলে এক বাবার ৩১০ জন সন্তান, মুর্শিদাবাদে ১৯৯ জন এবং আসানসোলে ১৭০ জন সন্তানের হদিশ মিলেছে। এখনও পর্যন্ত তালিকায় এমন অন্তত ২০০ জন ‘বাবা’ পাওয়া গেছে যাদের প্রত্যেকেরই অন্তত ২০০ জন করে সন্তান রয়েছে। দুই লক্ষেরও বেশি মানুষের ৬টির বেশি সন্তান দেখানো হয়েছে। কমিশনের দাবি, এই পরিসংখ্যান কেবল অবাস্তবই নয়, বরং পরিকল্পিত জালিয়াতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এই পদ্ধতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।