তল্লাশিনির্ভর নথিপত্র কি ‘চুরি’ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী? আইপ্যাক কাণ্ডে উত্তাল দিল্লি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায় দেশ

রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় আইপ্যাক (I-PAC), ইডি এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিমুখী সংঘাত। গত জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই বিতর্কের জল এবার গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। আজ সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে, যার ওপর নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এবং প্রশাসনের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার তদন্তে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশিতে যায় ইডি। সেই সময় সেখানে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মার উপস্থিতির মাঝেই আচমকা হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির ভেতর থেকে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডি-র অভিযোগ, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের মদতেই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে গেছেন, যাকে ইডি কার্যত ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআই হস্তক্ষেপ জরুরি।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে দাবি করেছেন যে, ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই দলের কিছু প্রয়োজনীয় নথি উদ্ধার করা হয়েছিল এবং তল্লাশিতে কোনও বাধা দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ইডি পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে নেওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। আজ শীর্ষ আদালতে জাস্টিসদের পর্যবেক্ষণে কী উঠে আসে এবং এই মামলা সিবিআই-এর হাতে যায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।