টাকার নোট থেকে কি বিদায় নেবেন গান্ধীজি? ছবি পরিবর্তনের আসল নিয়ম জানলে চমকে যাবেন!

মানিব্যাগ খুললেই চোখে পড়ে মহাত্মা গান্ধীর হাসিমুখ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে— ভারতীয় মুদ্রার নোট থেকে কি গান্ধীজির ছবি সরিয়ে অন্য কারও ছবি বসানো সম্ভব? প্রযুক্তিগতভাবে এর উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলেও, প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং আইনি মারপ্যাঁচে ঠাসা। যদিও আরবিআই (RBI) বারবার স্পষ্ট করেছে যে আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, তবুও এই পরিবর্তনের চাবিকাঠি কার হাতে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি ক্ষমতা কার? ১৯৩৪ সালের ‘আরবিআই অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ভারতীয় মুদ্রার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাতে। এই আইনের ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নোট ইস্যু করার একমাত্র ক্ষমতা আরবিআই-এর। তবে নোটের নকশা বা ছবিতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে কেবল আরবিআই-এর সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়।

কীভাবে শুরু হয় এই প্রক্রিয়া? ১. আরবিআই সেন্ট্রাল বোর্ড: মুদ্রায় কোনো বদল আনতে হলে প্রথমে প্রস্তাব ওঠে আরবিআই-এর কেন্দ্রীয় বোর্ডে। সেখানে নিরাপত্তার খাতিরে নকশা, মুদ্রণ খরচ এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হয়। ২. কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন: আরবিআই আইন অনুসারে, নোটের ডিজাইন বা ফর্ম পরিবর্তনের চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অর্থাৎ, আরবিআই সুপারিশ করলেও ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারত সরকার সবুজ সঙ্কেত না দিলে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

বিতর্ক ও দাবি: মাঝেমধ্যেই স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা এপিজে আব্দুল কালামের ছবি নোটে রাখার দাবি ওঠে। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে গান্ধীজির ছবি ভারতীয় মুদ্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে আবেগের পাশাপাশি এখানে আইনি ও কারিগরি স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।