ভারত-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! এই সপ্তাহেই বড় চমক দেবেন মোদী-বাইডেন, আমদানিতে বিশাল ছাড়

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি এই সপ্তাহেই কার্যকর হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তি বাস্তবায়নে একটি বিশেষ ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার’ জারি করতে পারেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে কমে একলাফে ১৮% হয়ে যাবে।

কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? পীযূষ গোয়েলের মতে, এই চুক্তিতে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • সোনা ও গয়না: রত্ন ও হীরা রপ্তানিতে শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে। সোনার গয়নার ওপর শুল্ক কমে ১৮% হবে।

  • বস্ত্র ও চামড়া: টেক্সটাইল, পোশাক এবং জুতো শিল্পের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্রগুলো ১৮% শুল্কের সুবিধা পাবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

  • ওষুধ: জেনেরিক ওষুধের ওপর ভবিষ্যতে শুল্ক শূন্য করার আশ্বাস মিলেছে।

  • বাসমতি চাল: বাসমতি চালের ওপর ১৮% শুল্ক কার্যকর হবে।

কৃষকদের স্বার্থ কি রক্ষিত? চুক্তি নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগের কড়া জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন:

  • দুগ্ধ ও খাদ্যশস্য: দুধ, পনির, মাখন বা ভুট্টার মতো পণ্যে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ দেশি ডেইরি শিল্প সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

  • আপেল ও আখরোট: আমেরিকান আপেল ভারতে প্রবেশ করলেও তার নূন্যতম দাম (LIP) ১০০ টাকার নিচে হবে না, ফলে হিমাচল বা কাশ্মীরের চাষীদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

  • তুলা: শুধুমাত্র উচ্চমানের ‘ELS’ তুলা আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা ভারতে উৎপাদিত হয় না।

আমেরিকার থেকে কী কিনবে ভারত? আগামী ৫ বছরে আমেরিকা থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশজুড়ে থাকবে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি, কোকিং কোল এবং বিমান ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ। পীযূষ গোয়েলের দাবি, এই চুক্তি কেবল কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের ভারতকে নতুন হাব হিসেবে দেখতে উৎসাহিত করবে।