‘অপ্রশিক্ষিত অধ্যাপকের চেয়ে দক্ষ কেরানি ভালো!’ সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন সংঘাতে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) নিয়ে দিল্লি ও বাংলার লড়াই এবার পৌঁছাল সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার শুনানির সময় মাইক্রো-পর্যবেক্ষকদের পদমর্যাদা ও যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (EC) এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে এবং কর্মকর্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অধ্যাপক বনাম কেরানি বিতর্ক: শুনানির এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি. শেষাদ্রি নাইডু যুক্তি দেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো জটিল কাজে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, “কখনও কখনও একজন প্রশিক্ষিত কেরানি একজন অপ্রশিক্ষিত অধ্যাপকের চেয়ে ভালো কাজ করেন।” মূলত রাজ্য সরকারের দেওয়া নতুন ৮,৫০৫ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই কমিশন এই মন্তব্য করে।
রাজ্য সরকারের অবস্থান: রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, মাইক্রো-পর্যবেক্ষক নিয়োগের জন্য তারা ইতিমধ্যেই ৮,৫০৫ জন কর্মকর্তার তালিকা কমিশনকে দিয়েছেন। আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা মনোজ পন্তও। রাজ্যের দাবি, ২৯৪ জন জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার সকলেই ‘ক্লাস এ’ অফিসার এবং বর্তমান তালিকাটিও যথেষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে তৈরি। রাজ্য চায় না কমিশন এই তালিকা থেকে কোনো নাম বাদ দিক।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এন.ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শোনে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, স্থানীয় কর্মকর্তারা ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং নামের অমিল আরও ভালো বুঝতে পারবেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানায়:
-
বর্তমানে তাদের কাছে ৬,৫০০ জন প্রশিক্ষিত অফিসার আছে।
-
নতুন তালিকায় কারা যোগ্য তা দেখতে ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন।
-
যোগ্যদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হবে।
পরবর্তী লক্ষ্য: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু আইনি জটের কারণে সেই সময়সীমা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই তারা চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করবে।