এআই কারসাজিতে প্রধানমন্ত্রীর অশ্লীল ছবি ভাইরাল! মেটা ইন্ডিয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর!

দিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে এবার মেটা ইন্ডিয়া (Meta India)-র প্রধানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ। মেটা ইন্ডিয়া হেড অরুণ শ্রীনিবাস ছাড়াও একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। দিল্লির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও তার জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপরে ভিত্তি করেই এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মূল ঘটনা ও অভিযোগের সূত্রপাত

দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে তীব্র আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার্থী ও পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি ছিল, সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। পরবর্তীতে চাপের মুখে পড়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান তাঁর পদ থেকে পদত্যাগও করেন।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই হায়দরাবাদের দুই ব্যক্তি—এস অরবিন্দ রেড্ডি এবং তেলঙ্গানার পরিচিত বিজেপি নেতা টি সাঁইকিরণ গৌর—সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার সময় তাঁদের নজরে আসে যে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নামে একাধিক অশ্লীল, ভুয়ো এবং এআই-জেনারেটেড (AI-generated) অসত্য ছবি অবাধে ছড়ানো হচ্ছে। এই ধরনের অবমাননাকর কনটেন্ট সমাজে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিযোগে জানানো হয়।

এফআইআর ও মেটার প্রতিক্রিয়া

হায়দরাবাদ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস এবং বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে এই ধরনের বেআইনি ও আইনবিরুদ্ধ কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে।

যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং এফআইআর দায়েরের পর এখনও পর্যন্ত মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলার যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছিল, যার সমাধান পরবর্তীতে করা হয়। তবে বর্তমান এই সাইবার মামলার জেরে সোশাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার ওপর চাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *