অ্যালার্ম নয়, ফ্লাইট ধরতে ভরসা জেপ্টো! মাঝরাতে ডেলিভারি পার্টনারের কাণ্ডে থমকে গেল নেটপাড়া

বিপদের বন্ধু কি কেবল মানুষই হয়? কখনও কখনও একটি মোবাইল অ্যাপও হয়ে উঠতে পারে ত্রাতা। অন্তত মুম্বাইয়ের ঋষভ আগরওয়ালের কাহিনী তেমনটাই বলছে। ঘড়িতে তখন রাত ৩টে ১৫। ঋষভের বোনের ভোর ৬টার ফ্লাইট, কিন্তু কোনোভাবেই তার ঘুম ভাঙানো যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ, বোনের বাড়িতে যাওয়ার সময়ও হাতে নেই। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাথায় এল এক অবিশ্বাস্য আইডিয়া— জেপ্টো (Zepto)!
ফ্লাইট বাঁচাতে ১০ মিনিটের রোমহর্ষক লড়াই: ঋষভ তড়িঘড়ি জেপ্টোতে একটি অর্ডার দেন এবং ডেলিভারি পার্টনার বিকাশ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেন। বিকাশকে অনুরোধ করা হয় ডেলিভারি দেওয়ার সময় যেন তিনি কলিং বেল বাজিয়ে বা দরজা ধাক্কিয়ে ঋষভের বোনকে জাগিয়ে দেন। বিকাশ ভাইও পিছিয়ে যাননি। রাত ৩টে ৩০ মিনিটে যখন অর্ডারটি পৌঁছাল, বিকাশের ক্রমাগত চেষ্টায় বোনের ঘুম ভাঙে এবং শেষমেশ তিনি সঠিক সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়: লিঙ্কডইনে এই গল্প শেয়ার করতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। জেপ্টোর শীর্ষ কর্তারাও হাস্যরসের সাথে এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, “আমরা আগে অ্যালার্ম ঘড়ি বিক্রি করতাম, এখন আমরা নিজেরাই অ্যালার্ম হয়ে গেছি!” বিকাশ ভাইয়ের এই মানবিকতা এবং উপস্থিত বুদ্ধিকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ। আধুনিক যুগে ‘কুইক কমার্স’ অ্যাপগুলো যে কেবল পণ্য নয়, মানুষের বিশ্বাসও বহন করছে— এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।