গাজিয়াবাদ ট্র্যাজেডি: ৩ বোনের আত্মহত্যার নেপথ্যে কি বাবার অন্ধকার অতীত? চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি বহুতল থেকে তিন কিশোরী বোনের মরণঝাঁপের ঘটনায় পর্দা ফাঁস হতেই শিউরে উঠছে দেশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও নিশিকা (১৬)-র বাবা চেতন কুমার কেবল শেয়ার বাজারের দেনায় ডুবে থাকা এক ব্যক্তিই নন, বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত জটিল এবং রহস্যময়।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, চেতন একই সঙ্গে তিন বোনকে বিয়ে করে ঘর করছিলেন। মৃত কিশোরীরা চেতনের দুই স্ত্রী সুজাতা ও হীনার সন্তান। তদন্তে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য মিলেছে— ২০১৫ সালে চেতনের এক ‘লিভ-ইন’ সঙ্গীও একইভাবে ছাদ থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলেন। সেই পুরনো আত্মহত্যার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ডিসিপি নিমিষ প্যাটেল।
মৃত কিশোরীদের ডায়েরি থেকে জানা গেছে, তারা প্রচণ্ডভাবে কোরিয়ান গেম ও সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত ছিল। আর্থিক অনটনে জর্জরিত বাবা মেয়েদের ফোন কেড়ে নেওয়া এবং এমনকি ফোন বিক্রি করে বিদ্যুতের বিল মেটানোর ফলে তারা চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিল। বিগত দুই বছর ধরে তারা স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল। পারিবারিক অশান্তি, চরম দারিদ্র্য এবং অনলাইন আসক্তির এই বিষাক্ত মিশেলই কি তিন বোনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিল? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।