রক্তাক্ত ইতিহাস! রোমান রাজার অমানবিক আইন ভেঙে কেন বলিদান দিয়েছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন?

ফেব্রুয়ারি মাস মানেই বাতাসে প্রেমের হাতছানি। গোলাপ, চকোলেট আর উপহারে প্রিয়জনকে ভরিয়ে দেওয়ার দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি। কিন্তু যে দিনটিকে আমরা প্রেমের উৎসব হিসেবে পালন করি, তার পেছনে লুকিয়ে আছে এক হাড়হিম করা অন্ধকার ইতিহাস। ভ্যালেন্টাইনস ডের উৎস কেবল রোমান্টিকতা নয়, বরং এর শিকড় ছড়িয়ে আছে প্রাচীন রোমের নৃশংস প্রথা ও আত্মত্যাগের কাহিনীতে।

ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, প্রাচীন রোমে ‘লুপারক্যালিয়া’ নামক একটি উৎসব পালিত হতো, যা ছিল আধুনিক ভ্যালেন্টাইনস ডের আদি রূপ। তবে সেই উৎসব মোটেও রোমান্টিক ছিল না; বরং সেখানে পুরুষরা নারীদের ওপর নানা নৃশংস আচার পালন করত। পরবর্তীকালে ৫ম শতাব্দীতে পোপ জেলাসিয়াস এই প্রথা বন্ধ করে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

সবচেয়ে প্রচলিত কাহিনীটি হলো রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস দ্বিতীয়-এর সময়ের। সম্রাটের বিশ্বাস ছিল, অবিবাহিত পুরুষরা বিবাহিতদের চেয়ে ভালো সৈনিক হয়। কারণ তাদের পরিবারের পিছুটান থাকে না। তাই তিনি রোমে বিয়ে নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু সাধু ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের এই আদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ে দিতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্রাট তাকে বন্দি করেন এবং ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২৭০ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বলা হয়, প্রেমের জন্য তার এই আত্মত্যাগের স্মৃতিতেই এই দিনটি পালিত হয়। তবে মজার বিষয় হলো, চতুর্দশ শতাব্দীর কবি জিওফ্রে চসার তার লেখনীর মাধ্যমেই এই দিনটিকে প্রথমবার ‘রোমান্টিক প্রেমের’ রঙে রাঙিয়ে তুলেছিলেন, যা আজ বিশ্বব্যাপী এক বিশাল উৎসবে পরিণত হয়েছে।