জ্বলন্ত জ্বরেও রেহাই মেলেনি! শুটিং সেটে ভয়াবহ ‘শাস্তি’ পেয়েছিলেন জয়া প্রদা, আজও শিউরে ওঠে বলিউড!

রুপালি পর্দার জাঁকজমক আর গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাড়ভাঙা খাটুনি আর কখনও কখনও চরম লাঞ্ছনা। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া প্রদার ক্যারিয়ারেও জড়িয়ে আছে এমন এক যন্ত্রণার ইতিহাস, যা শুনলে আজও ভক্তদের গায়ে কাঁটা দেয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ১৯৮১ সালের তেলুগু ছবি ‘অগ্নি পুলু’ (Agni Poolu) শুটিংয়ের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।
জয়া প্রদা জানান, ওই ছবির একটি গানে তাকে ‘নাগিন’ বা সাপের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল। শুটিং চলাকালীন তার শরীরে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর ছিল। তীব্র অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি পেশাদারিত্বের খাতিরে রিহার্সাল করছিলেন। কিন্তু শরীর এতটাই দুর্বল ছিল যে তিনি বিরতি নিতে বাধ্য হন। আর তাতেই মেজাজ হারান ছবির কোরিওগ্রাফার। অসুস্থ অভিনেত্রীকে সহানুভূতি দেখানোর বদলে তিনি চরম শাস্তি দেন। প্রায় আধ ঘণ্টা জয়া প্রদাকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তে জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে অঝোরে কেঁদেছিলেন অভিনেত্রী।
অত্যাচার এখানেই থেমে থাকেনি। সাপের মতো অভিনয় করতে গিয়ে তাকে বারবার মেঝেতে বুক দিয়ে রগড়াতে হতো, যার ফলে তার পিঠে ও শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এমনকি চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করতে হয়েছিল যা করতে গিয়ে তিনি বারবার বমি করছিলেন। যন্ত্রণায় ও মানসিক চাপে তার চুল ঝরতেও শুরু করেছিল। তবে এত কষ্টের পর সিনেমাটি যখন মুক্তি পায়, দর্শকরা তার অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জয়া প্রদার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, সফলতার শিখরে পৌঁছাতে অভিনেত্রীদের পর্দার আড়ালে কতটা রক্তজল করা লড়াই লড়তে হয়।