খুন করে পুঁতে রাখা হলো দেহ, উপরে গমের চাষ! বিহারে নববধূর পরিণতি দেখে আঁতকে উঠল দেশ

অপরাধ ধামাচাপা দিতে খুনিরা কতদূর যেতে পারে, তার এক ভয়াবহ উদাহরণ মিলল বিহারের নালন্দায়। যৌতুকের দাবিতে এক ২০ বছরের নববধূকে নৃশংসভাবে খুন করে তাঁর মৃতদেহটি একটি খেতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, খুনের প্রমাণ মেটাতে সেই কবরের উপরেই বোনা হয়েছিল গমের ফসল। কিন্তু আইনের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি। প্রায় দুই মাস পর মাটির তলা থেকে উদ্ধার হলো গৃহবধূ সবিতা কুমারীর পচাগলা দেহ।

যৌতুকের লালসা ও নিখোঁজ রহস্য: ২০২৫ সালের ১ জুন ধুমধাম করে সবিতার বিয়ে হয়েছিল লোটন গ্রামের মণীশ কুমারের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন পরেই সোনার হার এবং বাইকের দাবিতে শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার। হঠাৎই সবিতার মোবাইল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ হয় বাপের বাড়ির লোকের। তাঁর ভাই লোটন গ্রামে গিয়ে দেখেন শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক। এরপরই ৫ ডিসেম্বর মানপুর থানায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

কীভাবে হলো পর্দাফাঁস? পুলিশ তদন্তে নেমে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অভিযুক্ত স্বামী মণীশ কুমারকে গ্রেফতার করে। মণীশকে জেরার পর এবং গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বহুয়ারা গ্রামের একটি খেতে তল্লাশি চালায়। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যে খেতটিতে গম চাষ হয়েছিল, তার মাটির গভীরেই পুঁতে রাখা হয়েছিল সবিতাকে। শনিবার সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে সবিতার দেহ উদ্ধার হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা: মডেল হাসপাতালে সবিতার দেহ ময়না-তদন্তের জন্য আনা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। তাঁরা অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।