সিপিএম-এর দরজা কি বন্ধ? এবার কি নওশাদ-হুমায়ুন এক মঞ্চে? জোট নিয়ে নয়া সমীকরণে তোলপাড় বাংলা!

রাজ্য রাজনীতিতে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করতেই জোটের অন্দরে দানা বাঁধছে নতুন নতুন সমীকরণ। একদিকে সিপিএম-এর সঙ্গে আইএসএফ-এর জোট যখন অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই তৃণমূল ত্যাগের পর নিজের দল গড়া হুমায়ুন কবীরের প্রতি সুর নরম করতে দেখা গেল নওশাদ সিদ্দিকীর দলকে। আইএসএফ-এর রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুনকে নিয়ে ‘পজিটিভ’ আলোচনা হওয়ায় জল্পনা এখন তুঙ্গে।
হুমায়ুনের প্রতি ‘ছুৎমার্গ’ কাটছে নওশাদদের? এক সময় সংখ্যালঘুদের নিয়ে হুমায়ুন কবীরের কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। এমনকি হুমায়ুন জোটের প্রস্তাব দিলেও নওশাদ সাফ জানিয়েছিলেন, আগে হুমায়ুনের দলকে ‘সেকুলার’ বা ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে। তবে সম্প্রতি ফুরফুরা শরিফ গিয়ে পীরজাদাদের সঙ্গে দেখা করা এবং নিজের পুরনো কিছু মন্তব্য প্রত্যাহার করায় হুমায়ুনের প্রশংসা হয়েছে আইএসএফ মহলে। সূত্রের খবর, কবীরের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নিয়ে আইএসএফ-এর অন্দরে এখন আর কোনো বড় ‘ছুৎমার্গ’ নেই।
সিপিএম-এর নীরবতা ও জোটের ভবিষ্যৎ: আইএসএফ সূত্রে খবর, তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে বামেদের সঙ্গে জোট গড়তে তাঁরা বারবার আলিমুদ্দিনে মেইল ও ফোন করেছেন। কিন্তু বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না আসায় অস্বস্তি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী অবস্থান নওশাদদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। TV9 বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নওশাদ জানান, বিমান বসুর সঙ্গে কথা হলেও ওদিক থেকে প্রতিক্রিয়া পেতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে কবীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আশা রাখব তিনি কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত দেবেন না।” আগামী সপ্তাহে আইএসএফ-এর রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রাস্তা আরও পরিষ্কার হতে পারে।