১১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলায় শুরু ‘বাবরি’ নির্মাণ! ১০০ গাড়ির কনভয় নিয়ে ‘বাবরি যাত্রা’র ডাক দিলেন হুমায়ুন

অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে ভারতের রাজনীতি দশকের পর দশক উত্তাল থেকেছে। এবার সেই একই ইস্যুতে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আগুন জ্বালালেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করার ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্য়েই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নির্মাণ কাজ ও ‘বাবরি যাত্রা’র নির্ঘণ্ট: হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বেলডাঙায় কোরান পাঠের মাধ্যমে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কাজ শুরু হবে। তার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি ‘বাবরি যাত্রা’। এই যাত্রা নদিয়ার পলাশি থেকে শুরু হয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার পর্যন্ত মোট ২৬৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। প্রায় ১০০টি গাড়ির কনভয় এবং ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।

অপপ্রচারের জবাব না কি ভোটের কৌশল? সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন দাবি করেন, বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে চারদিকে নানা অপপ্রচার চলছে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি সেই সব অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দিতে চান। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ নিছক ধর্মীয় নয়, বরং পুরোপুরি রাজনৈতিক। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আসন্ন নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করতেই তিনি এই স্পর্শকাতর ইস্যুকে হাতিয়ার করছেন। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে নিজের দলের সংগঠন মজবুত করতেই এই দীর্ঘ যাত্রার পরিকল্পনা।

এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘বাবরি যাত্রা’ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে? হুমায়ুনের এই চাল কি তৃণমূল বা বিজেপির ভোটে থাবা বসাতে পারবে? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।