বিদায়বেলায় ইউনূসের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ না কি ঋণের ফাঁদ? ১ লক্ষ কোটির মেগা প্রকল্পে উত্তাল বাংলাদেশ!

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ সময় শাসনের পর বিদায় নিতে চলেছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু ঠিক এই বিদায়বেলাতেই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। অভিযোগ উঠছে, দেশ যখন ঋণের বোঝায় জর্জরিত, তখন একের পর এক মেগা প্রকল্পে অনুমোদন দিয়ে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন তিনি।
ওয়াসার কাঁধে ঋণের পাহাড়: ঢাকা ওয়াসা (ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটি) আগে থেকেই ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝায় নুয়ে রয়েছে। অথচ এই ঋণের কিস্তি পরিশোধের আগেই গত ২৩ ডিসেম্বর নতুন একটি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে। ৭১২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সিংহভাগ (৫৭১ কোটি টাকা) আসবে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে। এই বিপুল অংকের ঋণ জোগাড় করা এবং তা পরিশোধের পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
শেষবেলায় প্রকল্পের ঝড়: প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ইউনূস সরকার মোট ৬৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০টিই একদম নতুন প্রকল্প। বিস্ময়কর বিষয় হলো, হাসিনা সরকারের পতনের পর গত দেড় বছরে এই সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার সম্মিলিত খরচ প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের এই ‘প্রকল্প বিলাস’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
বৈষম্য ও অগ্রাধিকার নিয়ে বিতর্ক: অভিযোগ উঠেছে, এই নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই বর্তমান সময়ে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ছিল না। সবথেকে বেশি খরচ করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে, অথচ কর্মসংস্থানের মতো জরুরি ইস্যুতে বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। এছাড়া ভৌগোলিক বৈষম্যের অভিযোগও প্রকট। মোট বরাদ্দের একটি বিশাল অংশ শুধু চট্টগ্রামের জন্য রাখা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের ২১টি জেলা কোনো প্রকল্পেরই ছোঁয়া পায়নি। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ অবশ্য জানিয়েছেন, রফতানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নই তাদের অগ্রাধিকার। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীরা। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর এত বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কি নৈতিকভাবে ঠিক? সেই প্রশ্নই এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।